রতন রায় : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি//
নদীভাঙনের রোষ থেকে মুক্তি ও স্থায়ী সমাধান চায় চর ও নদীভাঙন কবলিত মানুষ। ‘পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর মতো আলাদা ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবিতে শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন ও সমাবেশ।
স্থানীয়দের ব্যানার-ফেস্টুনে শোভিত হয়ে উঠেছিল দুধকুমার নদের তীরবর্তী টেপারকুটি এলাকা। ‘নদী ভাঙনে আর ঠিকানা বদল করতে চাই না’, ‘চরবাসীর ভাগ্য বদল চাই’— এমন নানা স্লোগানে সেখানে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বাস করেন। কিন্তু তাদের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে নেই কোনও পৃথক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠান। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে যেমন পৃথক মন্ত্রণালয় রয়েছে, ঠিক তেমনই চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ ও -এর জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে জেলা চর উন্নয়ন কমিটি আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের প্রান্তিক সীমানায় বসবাস করে। তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা দুই-ই জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজন।”
সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাবেক এমপি উমর ফারুক, সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক, সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল প্রমুখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন চর ও নদীভাঙন কবলিত এলাকা থেকে প্রায় ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ এই সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
একটি সুসংহত ও কার্যকরী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও নদীভাঙন রোধে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন চর উন্নয়ন আন্দোলনের সাথে যুক্ত নেতাকর্মীরা।


