এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জাতীয় মহাসড়ক এখন ভাঙাচোরা আর খানা-খন্দে ভরপুর। কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, কোথাও আবার রাস্তা উঁচু-নিচু হয়ে তৈরি হয়েছে ঢিবি। ফলে যানবাহনের গতি কমে গেছে, আর প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে অন্তত আড়াই কিলোমিটার এখন ইটের সড়কে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়া অংশের মোট ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, কিছু জায়গা একেবারেই চলাচলের অযোগ্য।
সরেজমিন দেখা যায়, মজমপুর গেট থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পুরো পথে নানা জায়গায় খানা-খন্দ, ভাঙা অংশ আর উঁচু-নিচু ঢিবি। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অংশটুকু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে এখন চলছে যানবাহন ইট বিছানো অস্থায়ী রাস্তায়।
গড়াই পরিবহন বাসচালক আব্দুর রশিদ বলেন, গত এক বছরে রাস্তা সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে। আগে এক ঘণ্টায় যাত্রা শেষ হতো, এখন লাগে দুই ঘণ্টা। গাড়ি প্রায়ই খারাপ হয়ে যায়।
যশোরে চাকরির সূত্রে নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন আসাদুল ইসলাম শাহিন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে এই রাস্তা কার্পেটিং অবস্থায় দেখছি। এখন কেন যেন ইটের রাস্তা বানানো হচ্ছে বুঝি না। দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া দরকার।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান বলেন, “উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি এভাবে চলতে পারে না। নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে, গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে, যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে এই সড়ক সংস্কারের জন্য আলাদা বাজেট নেই। যেসব রাস্তা রিপেয়ার করার জন্য কিছু ইট হাতে আছে, সেগুলো দিয়েই অস্থায়ীভাবে ইটের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ সাত-আট বছর আগে এই মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। নতুন প্রকল্পের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।


