পারভেজ হাসান সায়েম, বেরোবি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি বৈঠকে ৮ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের কারও প্রতি প্রশাসনের নরম মনোভাব নেই। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বহিষ্কারের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা সবাই মার্কেটিং বিভাগের। তারা হলেন— সাফায়েত শুভ (১৬ ব্যাচ), শাহরিয়ার অপু সজিব (১৬ ব্যাচ), সৌরভ (১৬ ব্যাচ), নাজমুজ সাকিব (১৬ ব্যাচ), রোহান সরকার (১৬ ব্যাচ), রোহান (১৬ ব্যাচ), জিহাদ (১৬ ব্যাচ) ও আশরাফুল (১৪ ব্যাচ)।
এর আগে সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মার্কেটিং, পরিসংখ্যান ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। সংঘর্ষ চলাকালে একাডেমিক ভবন – ৩ এ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, শিক্ষকবৃন্দ এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের প্রসঙ্গে প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “আমাদের কাছে ঘটনার সব ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।সেসব ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে যেসব শিক্ষার্থী ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদেরও সাময়িকভাবে বহিষ্কারের আওতায় আনা হবে এবং পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বহিস্কার সম্পর্কে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার
ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, “সব বহিষ্কারই প্রাথমিকভাবে সাময়িক। পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন সিন্ডিকেট মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হবে। তদন্তে যাদের দায় পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংঘর্ষ এবং বহিষ্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।


