এম কে হাসান,জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার।
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন এ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার অবস্থা নিরূপণের জন্য খুব বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই, দরকার শুধু পজেটিভ মানসিকতা, দরকার এই দ্বীপের মানুষ গুলো কে মানুষ মনে করা, তাদের করুণ আর্তনাদ এর একটা গল্প হুবহু তুলে ধরা হলো। সেন্টমার্টিনে আমার রিসোর্ট বিক্রি নিয়ে কয়েকদিন আগে পোস্ট করেছিলাম।
রিসোর্টি: Dwip Kutir Resort Saintmartin অনেকেই বিশ্বাস করেনি। উল্টো ভাজে কথা শুনেছি।
এখন মিডিয়ায় বাস্তবতাটা উঠে আসছে। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তাবাবুরা বিশ্বাস করতে চাইবে না। তাই বলছি দ্বীপে আসেন দূর্ভিক্ষ দেখে যান। তখন হয়তো বিশ্বাস করবেন।
আমি: মোঃ আল নোমান। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেন্টমার্টিনে। পৈতৃক সূত্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা এই দ্বীপে বসবাস করছি। এখানকার মানুষের জীবিকার মূল উৎস হলো পর্যটন।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক আসলেই দ্বীপে প্রাণ ফিরে আসে—হোটেল, দোকানপাট, গাড়িঘোড়া, সবকিছুতে কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়।
দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ রিসোর্ট ও হোটেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অনেকেই নিজেদের বসতবাড়ির একাংশ পর্যটকদের থাকার জন্য ভাড়া দেন। সেটিই আমাদের পরিবারের প্রধান আর্থিক ভরসা।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন বন্ধ। মানুষের কোলাহল নেই, জীবিকার পথ প্রায় বন্ধ।
যদিও সরকার বলছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটক আসতে পারবে, কিন্তু রাত্রীযাপন শুধুমাত্র জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই অনুমোদিত—তাও কেবল কক্সবাজার থেকে জাহাজে আসা যাত্রীদের জন্য।
এতো কষ্ট করে, এত টাকা ও সময় ব্যয় করে সেন্টমার্টিন এসে যদি দিনে ফিরে যেতে হয়, তা মানুষকে আকর্ষণ করবে না—বরং নিরুৎসাহিত করবে।
এমন তামাশা মার্কা নিয়ম দিয়ে দ্বীপবাসীর দুর্দশা দূর হবে না।
আমাদের বিকল্প আয়ের উৎস নেই। বাধ্য হয়ে অনেকে নিজ বসতবাড়ি বিক্রি করছেন, দ্বীপ ছেড়ে যাচ্ছেন। কেউ বান্দরবানে, কেউ টেকনাফে—আমি নিজেও সেই বাস্তবতার ভুক্তভোগী।
এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন স্পট সেন্টমার্টিনের প্রতি সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা পরিকল্পনা চোখে পড়ে না।
পর্যটকরা আসতে চায়, শান্তি নিতে চায়—তাদের আগমনই এখানকার মানুষের জীবিকার একমাত্র ভরসা।
আমার সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান
১. সেন্টমার্টিনে যাতায়াত সহজ করুন — প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিন।
২. টেকনাফ থেকে শিপ সার্ভিস পুনরায় চালু করুন এবং প্রয়োজনে ভর্তুকি দিন।
৩. সম্ভব হলে শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নৌ-জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিন।
৪. দ্বীপের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন।
শেষ কথা:
সেন্টমার্টিনের বর্তমান দুর্দশা দূর করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে পর্যটকরাই।
তারা শুধু আনন্দ নয়, আমাদের বেঁচে থাকার আশাটুকুও ফিরিয়ে আনতে পারে—ইনশাআল্লাহ ।



