এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু বা টানেল নির্মাণ প্রকল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব, পর্যটন সম্ভাবনা এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
সভায় অর্থনীতি, পর্যটন, পরিবেশ এবং নদী শাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটির প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অর্থনীতি ও পর্যটনে সম্ভাবনা:- বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজার-মহেশখালীর মধ্যে সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। মহেশখালীতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনালসহ বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পপ্রকল্প গড়ে উঠেছে। সেতু নির্মিত হলে এসব প্রকল্পের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ হবে, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। মহেশখালী সহজে যাতায়াতযোগ্য হলে দ্বীপভিত্তিক পর্যটনের প্রসার ঘটবে, যা দেশের পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ:- তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিবেশগত ঝুঁকি ও নদী ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। মহেশখালী চ্যানেলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, জোয়ার-ভাটার প্রবাহ এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যথাযথ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) এবং টেকসই নকশা গ্রহণ জরুরি বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও সরকারি অবস্থান:- সভায় প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, অন্তর্বর্তী সময়ে প্রকল্পটি প্রত্যাশিত অগ্রগতি পায়নি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের অধীনে এটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে।
স্থানীয় প্রত্যাশা:- স্থানীয় বাসিন্দা ও অংশীজনদের মতে, সেতু নির্মাণ শুধু যোগাযোগ সহজ করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারা।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সামগ্রিক মূল্যায়ন:- বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবকাঠামোতে পরিণত হতে পারে। তবে এর সুফল পেতে হলে পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা ও সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।


