ঢাকাTuesday , 7 July 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • টানা বর্ষণে বান্দরবানে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা; বন্ধ সব পর্যটনকেন্দ্র

    admin
    July 7, 2026 9:17 pm
    Link Copied!

    উমংনু মারমা, বান্দরবান প্রতিনিধি,

    কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান পৌর শহরের বালাঘাটা ক্যান্টনমেন্ট সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুর সমান পানি জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহনের চালকরা। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার থেকে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
    সরেজমিনে দেখা গেছে, বালাঘাটা ক্যান্টনমেন্ট সড়কে জমে থাকা পানির কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। যানবাহনের সংকটে অনেক স্কুলগামী শিক্ষার্থীকে হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে তাদের পোশাক ও জুতা ভিজে যাচ্ছে। ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনের যাতায়াতে স্থানীয়দের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
    বান্দরবান ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রনবীর বড়ুয়া ও জর্জ তংচঙ্গ্যা বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় তেমন জলাবদ্ধতা ছিল না। কিন্তু স্কুল ছুটির পর বাসায় ফেরার সময় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। পানি পার হতে গিয়ে প্যান্ট ও জুতা পুরোপুরি ভিজে গেছে। কাপড়-চোপড় না শুকালে পরদিন স্কুলে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
    ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী অংক্যচিং মারমা ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বালাঘাটা সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাটি নিচু হওয়ায় প্রায়ই এখানে পানি জমে থাকে। আরও কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ সড়কে চলাচল আরও দুর্ভোগে পরিণত হবে।
    এদিকে কয়েকদিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হতে শুরু করেছে।
    বান্দরবান প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে। আগামীকালও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
    সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় মোট ২২০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
    বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
    টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কায় মঙ্গলবার থেকে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ এবং দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
    থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক ও গাইডদের এসব এলাকায় ভ্রমণ ও নৌযান চলাচল থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
    তিনি আরও জানান, দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে ৬৯ জন পর্যটক ও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড টানা ভারী বৃষ্টির কারণে আটকা পড়েন। উপজেলা প্রশাসনে সহযোগীতায় মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলে তারা নিরাপদে রেমাক্রি বাজারে পৌঁছান। তবে নদীর স্রোত এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তারা থানচি সদরে ফিরতে পারেননি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ জ্যাকেট পাঠানো হয়েছে। তবে আটকে পড়া সব পর্যটক ও গাইড সুস্থ রয়েছেন।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST