বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ;মাগুরা থেকে/
ঐতিহ্যবাহী নোমানী ময়দান কি হারাতে বসেছে তার পুরনো রূপ? শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মাঠ ঘিরে সম্প্রতি যে চিত্র ভেসে উঠেছে, তাতে এমন প্রশ্নই উঠেছে নাগরিক সমাজে। খেলার মাঠের জায়গা সংকুচিত করে, অস্থায়ীভাবে গজিয়ে উঠেছে একের পর এক খাবারের দোকান। মাঠের আশেপাশে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকান অপসারণে এখন সরব হয়েছে মাগুরা জেলা হোটেল মালিক সমিতি।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর ), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করে সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, নোমানী ময়দান শহরের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও আজ তা অবহেলিত ও দখলদারদের কবলে পড়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, “এইসব অবৈধ দোকানদাররা কোনো ধরনের লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়াই মাঠের জায়গা ব্যবহার করছে। এতে একদিকে যেমন খেলার মাঠ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের পরিবেশ হারাচ্ছে সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা।”
সমিতির সভাপতি গোমতীর বার্তা কে বলেন, “শহরের হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে এসব অবৈধ দোকানদার অস্বাস্থ্যকর ও অননুমোদিত পরিবেশে খাবার বিক্রি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি। আমরা চাই দ্রুত প্রশাসন ব্যবস্থা নিক এবং মাঠটি তার পুরোনো রূপ ফিরে পাক।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। মাঠে খেলতে আসা তরুণদের অভিযোগ, “এখন আর ঠিকমতো খেলা যায় না। দোকানের চেয়ার, টেবিল আর গাড়ির ভিড়ে মাঠটাও যেন হাটে রূপ নিয়েছে।”
জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, নোমানী ময়দান শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এটি একাধিক রাজনৈতিক সমাবেশ, শহীদদের জানাজা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ঐতিহাসিক স্থান। এই মাঠের সংরক্ষণে সচেতন মহলের পাশাপাশি এবার সরব হয়েছে শহরের হোটেল ব্যবসায়ীরাও, যা ইঙ্গিত দেয়—শহরবাসী তাদের প্রিয় মাঠ রক্ষায় আর চুপ করে থাকতে রাজি নয়।


