কুমিল্লা প্রতিনিধি
দূর থেকে তাকালে মনে হবে উঁচু পাহাড়। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায়, আসলে সেগুলো পাহাড় নয়—তিন দশক ধরে জমে থাকা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ।
এ বেদনাদায়ক চিত্র দেখা যায় কুমিল্লা শহরের উপকণ্ঠ ঝাঁকুনিপাড়া ও দৌলতপুর গ্রামে। যে কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ প্রায় তিন দশক ধরে এই এলাকায় ফেলা হচ্ছে নগরীর সব ময়লা-আবর্জনা। যে কারনে পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, এবং দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে এসব এলাকার মানুষ। বর্জ্য থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ ও দূষিত পানি আশপাশের কৃষিজমি ও পানির উৎসকে করছে বিপজ্জনক। এছাড়া দুর্গন্ধে শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে।
ঝাঁকুনিপাড়ার নিলুফা বেগম বলেন, দুর্গন্ধে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। বাড়িতে থাকা যায় না।
দৌলতপুরের স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, ময়লার ভাগাড়ের আশপাশ দিয়ে কেউ আসতে যেতে পাড়ে না। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন।
রফিক মিয়া বলেন, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এই এলাকার সাধারণ মানুষ। দূর থেকে ভালো কোন বিয়ের সমন্দ আসে না এ গ্রামে।
পথচারী সফিকুল ও অটোচালক সোহেল বলেন, এখান দিয়ে আসতে যেতে কষ্ট হয়। এই ময়লার ভাগাড়ের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় দুর্গন্ধ প্রচন্ড।
জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে কুমিল্লা পৌরসভা এখানে ময়লা ফেলতো। ২০১১ সালে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভাকে নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এরপর থেকে এখানে বেড়েছে ময়লা ফেলা। যে কারনে এই স্থান ধীরে ধীরে এই ময়লা-আবর্জনার পাহাড়ের পরিনত হয়েছে।
কুমিল্লা সিটিকর্পোরেশন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাঈন উদ্দিন চিশতী বলেন, আমরা একটি প্লান্টের চিন্তাভাবনা করেছি। এখনো হয়তো ভবিষ্যতে এটা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভাকে নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এর পর থেকেই নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ ময়লা এখানে ফেলছে সিটি করপোরেশন। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ পরিবেশকর্মী ও সংগঠকেরা এভাবে খোলা স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৭ বছর ধরে সিটি করপোরেশন বলছে, নগরের এসব ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ওই সব এলাকার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বিষাক্ত দুর্গন্ধের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন। এরই মধ্যে একাধিকবার এই প্রকল্প গ্রহণ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।



