মোঃ মাসুম বিল্লাহ্ বরগুনা জেলা প্রতিনিধি।।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরগুনা জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য তিন দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। উঁচু দেয়াল ও কঠোর শৃঙ্খলার ভেতরেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে বন্দিদের মাঝে। তিন দিনের এই উদ্যোগে বদলে গেছে কারাগার চত্বরের পরিবেশ।
ঈদের সকালে বন্দিদের জন্য পরিবেশন করা হয় পায়েস ও মুড়ি। দুপুরে ছিল সাদা পোলাও, গরু–খাসির মাংস ও মুরগির রোস্ট। রাতে ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজি দেওয়া হয়। বিকেলে আয়োজন করা হয় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
স্বজনদের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সাক্ষাতের সুযোগ, রজনীগন্ধা ফুল, মিষ্টি, চিপস–চকলেট বিতরণে কারাগার চত্বরে তৈরি হয় এক উচ্ছ্বাসপূর্ণ পরিবেশ। তিন দিনের মধ্যে একদিন বন্দিরা পাচ্ছেন বাড়ি থেকে আনা খাবার এবং পাচ্ছেন পাঁচ মিনিট ফোনে কথা বলার সুযোগ। আনা খাবার হয়রানি ছাড়া দ্রুত বন্দিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।
মানবিক এই উদ্যোগ কারাগারের ভেতর স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়েছে। বন্দিরা যেমন আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন, তেমনি স্বজনদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আবেগঘন মুহূর্ত।
ঈদের আগে কারাগারে বন্দি ছিলেন ৪৫৭ জন; জামিনে মুক্তির কারণে বর্তমানে রয়েছে ২৫৯ জন।
কারাগারে দেখতে আসা স্বজনরা জানান, “অনেক দিন পর প্রিয় মানুষটার সঙ্গে দেখা হলো। ফুল আর মিষ্টি হাতে পেয়ে ভালো লাগছে। এমন মানবিক আয়োজনের জন্য আমরা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
বরগুনা জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,
“ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা তিন দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন করেছি। যেন বন্দিরাও মানবিক পরিবেশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে—সে লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে, এবারের ঈদ আয়োজন শুধু খাবার বা অনুষ্ঠান নয়—বরং বন্দি ও স্বজনদের মধ্যে এক মানবিক সেতুবন্ধন। কারাগারের স্লোগান “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ”—এই আয়োজনে যেন আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।



