পটুয়াখালী বাউফল প্রতিনিধি মোঃ রুবেল হোসেন
পটুয়াখালীর বাউফলে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে অপহরণের পর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আনোয়ার বয়াতী (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালী সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই সকালে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আয়লা তাজু মোল্লার ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে কৌশলে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে তিনি তার বড় বোনের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর মানসিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে মরিয়ম বেগম (৩৩) নামে এক নারী তাকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে আনোয়ার বয়াতী তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর একটি অটোরিকশায় করে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মরিয়ম বেগম ভুক্তভোগীর বড় বোনের প্রতিবেশী হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে তার পরিচিতি ছিল। সেই সূত্রে আনোয়ার বয়াতীরও বাড়িটিতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এই পরিচয়ের সুযোগেই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে বাউফল থানায় আনোয়ার বয়াতী ও মরিয়ম বেগমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ মরিয়ম বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে শনিবার পৃথক অভিযানে পটুয়াখালী সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আনোয়ার বয়াতীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৮।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলার একজন আসামিকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে র্যাব-৮ প্রধান আসামি আনোয়ার বয়াতীকে আটক করেছে। তাকে বাউফল থানায় আনা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে গণ্য করা হবে না।


