নিজস্ব প্রতিবেদক
(দ্বিতীয় পর্ব)
দেশে বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে দিনের আলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনবরত জ্বলছে বাতি, ফাঁকা রুমে ঘুরছে ফ্যান, এ যেন দেখার কেউ নেই।
সেই একই প্রাঙ্গণে যথানিয়মে উত্তোলন করা হয় না জাতীয় পতাকা এমন চিত্র দেখা গেছে যশোর সদর এলএসডি (স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণাগার) অফিসে।
সম্প্রতি এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক-সাপ্তাহিক এবং অনলাইন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। দুই দপ্তরের দুই কর্মকর্তার নিজেদের নিয়মের ইচ্ছা প্রকাশ করেন সাংবাদিকদের নিকট।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো রাষ্ট্রীয় আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে দায়িত্বশীল পদে থাকা দুই দপ্তরের দুই কর্মকর্তারা দেখাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের নিয়ম-নীতি।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়টি নিয়ে যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমানকে সাংবাদিকরা জানতে গেলে তিনি কোনো গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে সাংবাদিকদের সম্মুখে উসকানিমূলক মন্তব্য করে বলেন, নিউজ তো করেই ফেলেছেন, তাহলে আপনারা আরো নিউজ করেন আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
একজন দায়িত্বশীল উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মুখে এমন বক্তব্য স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দেখা দিয়েছে।
জাতীয় পতাকা প্রতিটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্মান ও পরিচয়ের প্রতীক। জাতীয় পতাকার সঠিক সম্মান না দেওয়া এবং এ সম্পর্কিত বিষয়ে এমন তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আইনের প্রতি অবমাননাকর বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল।
প্রশাসনের এমন বেপরোয়া ও উদাসীন আচরণকে রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক সমাজ।
অবিলম্বে যশোর খাদ্য বিভাগের এই অব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় পতাকার অবমাননাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।


