রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (রামেবি) ‘আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে মব সৃষ্টি করে উপাচার্য ও এক কর্মকর্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা শরিফুল ইসলাম জনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ঘটনার খবর পেয়ে রামেবি ক্যাম্পাসে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, “ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি। এসে একটি ব্যানার দেখলাম—‘আপামর ছাত্র-জনতা’। কিন্তু এখানে যারা ছিলেন, তাদের কাউকে ছাত্র বলে মনে হয়নি। তারা যুবদলেরও কেউ নন।”
তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনগণের সরকারে কোনো মবতন্ত্র, দখলবাজি কিংবা জোরজবরদস্তির সুযোগ নেই। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইন ও নিয়মের ভিত্তিতে।”
রামেবির উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসারকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার ঘটনাকে পরিকল্পিত মব সৃষ্টির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে জনি বলেন, “আপামর ছাত্র-জনতার ব্যানারে পরিকল্পিতভাবে মব ক্রিয়েট করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “ভিসি থাকবেন নাকি পদত্যাগ করবেন—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কোনো ব্যক্তির কিংবা কোনো গোষ্ঠীর জোর করে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করার এখতিয়ার নেই।”
শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, “জাতীয়তাবাদী যুবদল এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। বিএনপিও মবতন্ত্র, দখলবাজি ও জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমরা চাই দেশে সাম্য, মানবিকতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।”
তিনি বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠানে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তদন্ত হবে, প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কাউকে দলবদ্ধভাবে ঘেরাও করে বা চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
রামেবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো পক্ষ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এই যুবদল নেতা।


