মুহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সানাউল্লাহ,শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি//
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে গাজীপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের গণসমাবেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মাঠে সক্রিয় হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শ্রীপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বেলা ৩ ঘটিকায় গাজীপুরের শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গাজীপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক মাজেদুল। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের হাতপাখার প্রার্থী জননেতা হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শ্রীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা ও পৌর শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক মাজেদুল বলেন, “দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য পিআর পদ্ধতি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা ধনিক শ্রেণি ও প্রভাবশালীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রস্তাবিত ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে হবে।”
সভাপতি জননেতা হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন বলেন, “গাজীপুর-৩ আসনের জনগণ পরিবর্তন চায়, তারা শান্তি চায়, তারা প্রকৃত গণতন্ত্র চায়। ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকই সেই পরিবর্তনের প্রতীক। এই দাবি শুধু ইসলামী আন্দোলনের নয়, বরং পুরো জাতির দাবি।”
উপজেলা নেতারা অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি রাজনৈতিক দমননীতি চালু রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী বড় জোটগুলো পালাক্রমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করছে, অথচ জনগণ থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের সেই ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।”
পাঁচ দফা দাবি
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো—
১. জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
২. জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন।
৩. সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. গণহত্যার বিচার।
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ।
বিক্ষোভ মিছিল
সমাবেশ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে শ্রীপুর চৌরাস্তার প্রধান সড়ক সব বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং পাঁচ দফা দাবির পক্ষে স্লোগান দেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো অতিক্রম করার সময় স্থানীয় মানুষের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কর্মসূচি। পরে মিছিলটি পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়।
দেশে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। তারা মনে করে পিআর পদ্ধতি চালু হলে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকবে এবং ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দল আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।
সমাবেশের নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার যদি দ্রুত তাদের দাবিগুলো মেনে না নেয় তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দেশের জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিছু হটবে না।”



