নোয়াখালী :–
নোয়াখালীর সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীস্টাব্দ তারিখে তাকে নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ছিলেন অপরাধীদের ত্রাস, মাদক নির্মূলের এরকম যোগ্য নেতৃত্বকে অপসারণের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, মাদক মামলায় আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা এ কে এম গোলাম সরোয়ারের সঙ্গে একই এলাকার চট্টগ্রামের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান খোকনের পারিবারিকভাবে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে পরিচিত বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি বাতানিয়া গ্রামের আবদুর রহিম নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য এ কে এম গোলাম সরোয়ার তদবির করেছিলেন-এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার তাকে ছেড়ে দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরপর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান খোকনের আমন্ত্রণে ওসি আবদুর রহিম সরকার একটি দাওয়াতে অংশ নেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর এ কে এম গোলাম সরোয়ার-ওসি ও ব্যবসায়ী খোকনকে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্য ও ছবি প্রচার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, খোকন কোনো সময় আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন কিংবা কোনো কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন-এমন তথ্য তাদের জানা নেই। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলা বা ছবি তোলাকে তারা কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না।
এদিকে পুলিশের একজন কর্মকর্তার কোনো ব্যবসায়ীর আমন্ত্রণে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত-এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযানে সেনবাগ থানার বর্তমান ওসি আবদুর রহিম সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবার ও সেবনের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতার কারণে স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
আবদুর রহিম সরকার গত ৯ মে ২০২৬ তারিখে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অপরাধ দমনে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব বক্তব্যের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পরিবর্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক পরিচয়, মাদক সংশ্লিষ্টতা কিংবা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট নথি, মামলার তথ্য ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করাও জরুরি।
ঘটনার বিষয়ে এ কে এম গোলাম সরোয়ারের বক্তব্য, আটক আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত তথ্য এবং মো. শাহজাহান খোকনের বক্তব্য পৃথকভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা হলে পুরো বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।


