মোঃ শাহজালাল, বরগুনা ॥
টেকসই উন্নয়ন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং জবাবদিহিতামূলক সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয় শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আরডিএফ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, বরগুনায় ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, বরগুনার আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সভাপতি অ্যাড. মো: আনিসুর রহমান এর সভাপতিত্বে কর্মশালাটি পরিচালনা করেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান।
কর্মশালার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্ব শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইয়েস গ্রুপের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সনাক সহ-সভাপতি ডা. মনিজা। তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালার মাধ্যমে জেলার স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠকদের সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নানা চ্যালেঞ্জ, উত্তরণের উপায় এবং করণীয় বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তরুণ সংগঠকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর ফিরোজ উদ্দীন কর্মশালার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন। মূল সেশনে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রায়োগিক উপায়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), তথ্য অধিকার আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কাজী শফিকুর রহমান।
কর্মশালায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণ সংগঠকদের করণীয় শীর্ষক দলীয় কাজ ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণে করণীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সনাক সভাপতি অ্যাড. মো: আনিসুর রহমান উপস্থিত তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ করান। তারা সমাজ থেকে দুর্নীতি দূরীকরণে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সনাক সভাপতির অ্যাড. মো: আনিসুর রহমান বলেন, তরুণ সমাজকে সচেতন ও জাগ্রত করতে পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তরুণদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় জেলার ২৬টি স্থানীয় সংগঠনের ৫০ জন তরুণ প্রতিনিধি (নারী ও পুরুষ) অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধিরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন এবং সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।
মোঃ শাহজালাল
বরগুনা।

