অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা:
উপজেলার লাউড়া-নাজিরপুরের মধ্যবর্তী স্থানে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ব্রিজটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে চরম অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। এই সেতুর কারণে ওই অঞ্চলে মারাত্মক পরিবেশগত বিপাক ও ব্যাপক কৃষি সংকট তৈরি হয়েছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত প্রবল তীব্র পলিযুক্ত ঘোলা পানির স্রোতে মাটি ও পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি, ঐতিহ্যবাহী জলাশয়। অনুর্বর হয়ে হুমকির মুখে ১০০ একরের বেশি ফসলি জমি। তাছাড়া ব্রিজের নীচে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে দেখা দিয়েছে প্রবল ভাঙ্গন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উজানের নদী ভাঙন থেকে আসা মাটি, বালি ও পলি ব্রিজের সংকীর্ণ ও তীব্র স্রোতের পথ দিয়ে দ্রুতবেগে প্রবাহিত হয়ে আশপাশের কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী ছাফরা বিল এবং সংলগ্ন এলাকার মাঠজুড়ে এসব পলি স্তূপাকারে জমা হচ্ছে। পলি জমার এ ধারা অব্যাহত থাকায় আনুমানিক ১০০ একর বা তারও বেশি উর্বর ফসলি জমি স্থায়ীভাবে পতিত হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পলির মোটা আস্তরণ পড়ে বিল ও আবাদি জমির তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও চাষাবাদ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে এসব জমিতে আর কোনো ধরনের ফসল বা খাদ্যশস্য ফলানো সম্ভব হবে না। স্থানীয়দের প্রধান জীবিকা কৃষি হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচার পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুসেল মেম্বার বলেন, একসময় এই ছাফরা বিল ছিল এলাকার সমৃদ্ধির প্রতীক। যেখানে বর্ষার শেষে স্থানীয় মানুষ উৎসবে মেতে দলবেঁধে পলো বাইত, সে ছাফরা বিল আজ পলি পড়ে আশেপাশের মাঠ-গাড়ার চেয়েও উঁচু ও শুষ্ক হয়ে গেছে। বিলটির অস্তিত্ব এখন বিলুপ্তির পথে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস জানান, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর একদাবি—কৃষিভিত্তিক এই জনপদ, ঐতিহ্যবাহী জলাশয় এবং প্রায় শতাধিক একর সোনালী ফসলি জমি রক্ষা করতে হলে উক্ত ব্রিজের কারণে সৃষ্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে সেতুটির বিকল্প ব্যবহার, সংস্কার বা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে নদী ও বিলের স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অতিদ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান প্রকৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।


