ঢাকাTuesday , 12 May 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • উন্নয়নের স্থিতিশীলতা ও কুড়িগ্রামের ভবিষ্যৎ: একটি ‘সেটেলড ইস্যু’র গুরুত্ব প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন

    admin
    May 12, 2026 6:48 pm
    Link Copied!

    কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ

    হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের নিউরোসাইকোলজি গবেষক এলিজাবেথ ম্যাটির মতে, ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা যখন অন্যের আবেগ ও প্রয়োজন নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন, তখন তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও প্রাজ্ঞ ও মানবিক হয়ে ওঠে। আমাদের বিশ্বাস, বর্তমান নীতিনির্ধারকগণ জনকল্যাণের মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবেন।

    একটি গতিশীল গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করলে যেমন আরোহীরা মারাত্মক ঝাঁকুনির শিকার হন, কিংবা ভ্রূণাবস্থায় কোনো আঘাত যেমন একটি শিশুর জীবনের সম্ভাবনাকে বিপন্ন করে—তেমনি চার বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করার চিন্তা এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এটি পিছিয়ে পড়া একটি জেলার মানুষের প্রত্যাশার ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে পরিগণিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    ইতিহাস আমাদের বারবার সতর্ক করে—জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠিত বা ‘সেটেলড ইস্যু’ যখন অপরিকল্পিতভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে, তার ফল শুভ হয়নি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক নানা ঘটনাপ্রবাহে আমরা দেখেছি, যৌক্তিক ও মীমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করার পরিণাম কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে। অহেতুক অস্থিরতা কেবল বিভেদ বাড়ায়, শান্তির মূল ভিত্তিটিই নড়বড়ে করে দেয়।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে ‘ডমিনো ইফেক্ট’ বলা হয়, তা এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারও ভুলে বা অদূরদর্শিতায় যদি একটি প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত ‘আনসেটেল’ বা বাতিল করা হয়, তবে তার প্রভাব কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যখন সাধারণ মানুষ দেখবে দীর্ঘ চার বছরের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বদলে যাচ্ছে, তখন অন্যান্য চলমান সরকারি প্রকল্পগুলোও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। আজ যদি বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘নালিয়ার দোলা’ থেকে সরানোর নজির তৈরি হয়, তবে কাল হয়তো অন্য কোনো গোষ্ঠী অর্থনৈতিক অঞ্চল বা অন্য কোনো মেগা প্রজেক্টের নকশা নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তনের দাবি তুলবে। এর ফলে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল নথিপত্র আর আলোচনার টেবিলেই ঘুরপাক খাবে; বাস্তবে কাজের গতি স্তিমিত হয়ে পড়বে।

    এমনকি দীর্ঘসূত্রতার কারণে উন্নয়ন প্রকল্প অন্য জেলায় স্থানান্তরের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ইমারতের একটি প্রধান ইট সরিয়ে নিলে যেমন পুরো কাঠামোটিই দুর্বল হয়ে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনও হবে তেমনি এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

    বর্তমান জনবান্ধব সরকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। উন্নয়ন রাজনীতির (Development Politics) ভাষায় সিদ্ধান্তের বারবার পরিবর্তনকে ‘পলিসি ইনকন্সিস্টেন্সি’ বলা হয়, যা যেকোনো অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়। এছাড়া ‘সানক কস্ট’ (Sunk Cost) বা ইতিপূর্বে ব্যয় হওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থ, শ্রম ও কারিগরি জরিপের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নালিয়ার দোলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে যে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও বিশেষজ্ঞ সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তা উপেক্ষা করা হবে উন্নয়নের ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি’কে মুছে ফেলার শামিল।

    কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: নালিয়ার দোলা কেন যৌক্তিক ও চূড়ান্ত পছন্দ?
    কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের বিষয়টি আজ আর কোনো নিছক প্রস্তাব নয়, বরং এটি দীর্ঘ কয়েক বছরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বিশেষজ্ঞ সমীক্ষা এবং জনমতের প্রতিফলনে একটি ‘সেটেলড ইস্যু’ বা মীমাংসিত বিষয়। এই যাত্রার প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কেন ‘নালিয়ার দোলা’ই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ স্থান হিসেবে বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞ সমীক্ষা ও প্রাথমিক নির্বাচন (২০২২):
    বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে জেলার বিভিন্ন স্থানের নাম প্রস্তাব করা হলেও, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের মতামত এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব মো: রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সম্ভাব্য তিনটি স্থান সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে। পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগের অপূর্ব সমন্বয় এবং নির্ভেজাল খাস জমি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকায় ‘নালিয়ার দোলার ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।

    ষড়যন্ত্র ও পুনঃতদন্তের অগ্নিপরীক্ষা:
    একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার প্রচেষ্টাও আমরা দেখেছি। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতার পক্ষ থেকে নালিয়ার দোলার পারিপার্শ্বিক জনপদকে ভিন্ন মতাবলম্বীর তকমা দিয়ে এবং ব্যয়বৃদ্ধির কাল্পনিক অজুহাত তুলে নালিয়ার দোলাকে বাতিলের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরাবর পত্র পাঠানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি পুনরায় একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে সত্যকে ঢাকা দেওয়া যায়নি। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফের নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জনাব উত্তম কুমার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মিজানুর রহমান এবং ঢাকা থেকে আসা কর্মকর্তাগণ দিনরাত পরিশ্রম করে পুনরায় প্রমাণ করেন যে, নালিয়ার দোলাই সবদিক থেকে উপযুক্ত। তাঁদের সেই দৃঢ় ও স্বচ্ছ অবস্থানের ভিত্তিতে ২১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে জেলা প্রশাসন পুনরায় নালিয়ার দোলাকে বহাল রাখার সুপারিশ প্রেরণ করে।

    অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন:
    নালিয়ার দোলার যৌক্তিকতা কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং এটি অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী। ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক কুড়িগ্রাম খবর’ ও ‘দৈনিক সকালের কাগজ’ তাদের প্রতিবেদনে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরে। সেখানে দেখা যায়, অন্যান্য স্থানের তুলনায় নালিয়ার দোলায় জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৮২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা এবং বালু ভরাটে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হওয়া সম্ভব। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের ক্যালেন্ডারেও নালিয়ার দোলাকেই স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে চিত্রিত করা হয়, যা এই সিদ্ধান্তের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রমাণ।
    সামষ্টিক ঐকমত্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৪-২০২৬):
    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব নুসরাত সুলতানার সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় জেলার সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুনরায় সর্বসম্মতিক্রমে নালিয়ার দোলার সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়। এমনকি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নালিয়ার দোলার উপকণ্ঠেই তাদের ইরি ধান রোপণের ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করেছে, যার সচিত্র প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক নথিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

    একটি জেলার সুষম উন্নয়নের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থান নিয়ে বিতর্ক না করে বরং জেলার অন্যান্য উপযোগী স্থানে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই হবে আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। এই টানাপোড়েন উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিকেও নষ্ট করতে পারে।

    কুড়িগ্রাম কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্র নয়; এটি লাখো অবহেলিত মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু উচ্চশিক্ষার এই বাতিঘরটি রক্ষার স্বার্থে আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, এই বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়—এটি আমাদের সন্তানদের সোনালী ভবিষ্যতের ঠিকানা। আসুন, সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কুড়িগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা এক ও অবিভাজ্য হই। শুভকামনা সকলের জন্য।
    অধ্যক্ষ (পিআরএল), কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST