মোঃ আবদুল মোতালেব
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :-
“এক হাত নাই তো তাতে কি হয়েছে?”—এই একটি বাক্যই যেন সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন এক উদাহরণ হয়ে উঠেছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছোট্ট শিশু মোঃ মোস্তাকিম।
প্লে-গ্রুপের এই শিক্ষার্থী জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও নিজের মেধা, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য চেষ্টার মাধ্যমে সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছে। এক হাত না থাকলেও তার চোখেমুখে নেই কোনো হতাশা; বরং রয়েছে স্বপ্ন জয়ের দৃঢ় প্রত্যয়। প্রতিদিনের লেখাপড়া, ক্লাসে অংশগ্রহণ ও নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
ছোট্ট মোস্তাকিমের এই এগিয়ে চলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য নন-প্রফিট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মরহুম সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন –এর অর্থায়নে। আর এর পেছনে যাঁর মানবিক অবদান, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিরলস সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত, তিনি হলেন মানবিক ব্যক্তিত্ব লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফআই শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
একাডেমির শিক্ষকরা জানান, মোস্তাকিম অত্যন্ত প্রাণবন্ত, মেধাবী ও মনোযোগী একজন শিক্ষার্থী। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সে কখনো দুর্বলতা হিসেবে নেয়নি। বরং প্রতিদিন নতুন উদ্যমে ক্লাসে অংশ নেয় এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজে যেখানে অনেক শিশু সামান্য প্রতিবন্ধকতায় পিছিয়ে পড়ে, সেখানে মোস্তাকিম হয়ে উঠেছে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মানসিক শক্তির জীবন্ত প্রতীক। তার এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প অন্য শিশুদের মাঝেও নতুন স্বপ্ন দেখাবে।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছোট্ট মোস্তাকিমকে নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, “এমন শিশুদের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
সেনবাগবাসীর প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা, ভালোবাসা ও উৎসাহ পেলে একদিন মোঃ মোস্তাকিম শুধু তার পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো সেনবাগের গর্ব হয়ে উঠবে।


