চিকিৎসা সেবা শুধু কিছু ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের বিষয় নয়, এটি মূলত একটি মানবিক প্রক্রিয়া। একটি সফল চিকিৎসার ভিত্তি তৈরি হয় ডাক্তার, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং সুষ্ঠু যোগাযোগের মাধ্যমে। এই ত্রিমুখী সম্পর্কটি হওয়া উচিত নিম্নরূপ:-
১. ডাক্তারের ভূমিকা:- ডাক্তার হলেন এই সম্পর্কের মূল চালিকা শক্তি। তাঁর আচরণে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি মানবিক দিকটি ফুটে ওঠা জরুরি।
সহানুভূতিশীল আচরণ:-
রোগীরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ডাক্তারের কাছে আসেন। তাই ডাক্তারের প্রথম কাজ হলো রোগীর কথা মন দিয়ে শোনা এবং তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।
সহজ ভাষায় রোগ বুঝিয়ে বলা:-
জটিল মেডিকেল টার্ম ব্যবহার না করে রোগ, এর কারণ এবং চিকিৎসার প্রক্রিয়াটি রোগী ও তাঁর স্বজনদের সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা উচিত।
স্বচ্ছতা ও সত্যতা:-
রোগের জটিলতা বা চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে কোনো কিছু লুকিয়ে না রেখে শুরুতেই একটা পরিষ্কার ধারণা দেওয়া উচিত।
রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা:-
রোগীর রোগ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গোপন রাখা ডাক্তারের নৈতিক দায়িত্ব।
২. রোগীর ভূমিকা:-
চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফল করতে রোগীকেও কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়।
সঠিক তথ্য দেওয়া:-
নিজের শারীরিক সমস্যা, পূর্বের রোগ বা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলে তা ডাক্তারের কাছে লুকানো যাবে না। শতভাগ সততার সাথে সব তথ্য শেয়ার করতে হবে। নির্দেশনা মেনে চলা:-
ডাক্তার যেভাবে ওষুধ খাওয়ার বা নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন, তা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা।
প্রশ্ন করা:-
নিজের রোগ বা চিকিৎসা নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকলে তা বিনম্র ভাবে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা।
৩. রোগীর স্বজনদের ভূমিকা:-
অসুস্থ অবস্থায় একজন রোগীর সবচেয়ে বড় ভরসা হলেন তাঁর স্বজনেরা। ডাক্তার ও রোগীর মাঝে তাঁরা সেতু হিসেবে কাজ করেন।
ধৈর্য ও মানসিক শক্তি:-
হাসপাতালের পরিবেশ বা রোগীর অবস্থা দেখে অনেক সময় স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কিন্তু এই সময়ে ধৈর্য রাখা এবং রোগীকে মানসিক সাহস দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি।
ডাক্তারকে কাজে সহযোগিতা করা:- ডাক্তার বা নার্সরা যখন রোগীকে দেখছেন, তখন তাঁদের কাজে বাধা না দিয়ে সহযোগিতা করা। অতিরিক্ত ভিড় না করে একজন বা দুজন দায়িত্বশীল মানুষের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখা উচিত।
অহেতুক সন্দেহ পরিহার করা:- ইন্টারনেটে আংশিক তথ্য দেখে বা অন্যের কথায় প্ররোচিত হয়ে ডাক্তারের চিকিৎসার ওপর অহেতুক সন্দেহ না করা। কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি ডাক্তারের সাথে কথা বলাই শ্রেয়।
সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো:- “পারস্পরিক শ্রদ্ধা” ডাক্তার, রোগী এবং স্বজন—এই তিন পক্ষই যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখেন, তবে চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও সুন্দর হয়:-
১. যোগাযোগ (Communication)
২. বিশ্বাস (Trust)
৩. শ্রদ্ধা (Respect)
একটি কথা মনে রাখা জরুরী ডাক্তার আল্লাহর উসিলায় রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি কোনো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী নন। ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে মারমুখী বা আক্রমণাত্মক না হয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই একটি সুস্থ ও আদর্শ সম্পর্কের লক্ষণ।
কলমে
মোঃ কামরুল হাসান
স্বেচ্ছাসেবী
সংবাদকর্মী


