জহিরুল ইসলাম সুমন চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাই এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ইউপি সভায় অনুমোদন ছাড়াই সরকারি বরাদ্দের অর্থ ও ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলের অর্থ নিজের ইচ্ছেমত ব্যয় করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ইউপি সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগে ৯ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন। সোমবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আ’লীগ সরকার পতনের পর উজিরপুর ইউপির নাইমুল ইসলাম মজুমদার মাসুম আত্নগোপনে চলে যায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য আবদুল হাইকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করেন। প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাইয়ের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে ইউপির সদস্য সিরাজুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, আবদুর রহমান, মোঃ সোহেল মিয়া, মোঃ লতিফ, নূরুল আলম মজুমদার, নূরুন নাহার, হাছিনা বেগম ও আমেনা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব দেন।
লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী প্রতি বছরে ১২টি সাধারণ সভার স্থলে নূন্যতম ৯টি সভা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাই ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাস থেকে কোন প্রকার সভা করেনি। তাকে সভা করার অনুরোধ করা হলেও তিনি ইউপি সদস্যদের সাথে অসদাচরণ ও দূর্ব্যবহার করেন। এছাড়াও সরকারি বিধি লংঘন ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে আবদুল হাই স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন সরকার আইনের তোয়াক্কা না করে টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এডিপি, উপজেলা উন্নয়ন তহবিল ও ইউপি উন্নয়ন সহায়ক ১% এর বরাদ্দ নিজের ইচ্ছেমত ব্যয় করছেন।
অপরদিকে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ইউপির নিজস্ব তহবিলের অর্থ পরিষদকে অবগত করে ব্যয় করার বিধান থাকলেও এই ক্ষেত্রে আবদুল হাই ব্যাপক অনিয়ম করেছে। তিনি পরিষদের বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্প এবং অফিশিয়াল সকল হিসাব-নিকাশ নিয়ম অনুযায়ী পরিষদের সকল সদস্যকে দেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি তা সম্পূর্ণ গোপন রেখেছেন। জানতে চাইলে আবদুল হাই সদস্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।
অনাস্থার বিষয়ে উজিরপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাই বলেন, যারা অনাস্থা দিয়েছে, ৫ আগস্টের পর তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা সকলে আত্মগোপনে ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই সকল সদস্যদেরকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে পরিষদের কাজে সম্পৃক্ত করেছি। এছাড়াও বিধি মোতাবেক ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সরকার তদন্ত করলেই অনিয়ম হয়েছে কিনা তা বের হয়ে আসবে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


