মোঃ আবদুল মোতালেব
নিজস্ব প্রতিবেদক :–
মনে পরছে তাজু যখন ভাইরাল হলো তখন সে বারবার বলছিল আমি সাংবাদিক না। আমি এমনি ভিডিও বানাই। তাকে সাংবাদিক বানিয়ে দিল একটা অনলাইন পোর্টাল।
সরকার যখন চাচ্ছে গণমাধ্যমের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, সাংবাদিকদের ন্যূনতম অনার্স পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করতে, ইউটিউবারদের সাংবাদিকতা থেকে বের করে দিতে, তখন তাজুকে সাংবাদিক বানানো হলো। এটা কেমন উদাহরণ হলো, জানি না।
ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হলো, তার সরলতা। সাংবাদিকতা মানে সমস্যা সমাধান করা। তাজু যেহেতু সমস্যা সমাধান করছে, তাহলে সে ভালো করবে, তাকে আরও উৎসাহ দেওয়া।
জাতির একটা প্রশ্ন থেকে গেল :-
তাহলে খাইরুল দেওয়ান কেন রাষ্ট্রপতি হতে পারবে না?
টাইমস টুডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খাইরুলও সংস্কার চান, ভালোভাবে দেশ চলুক, এটাই চান। তাহলে খাইরুলকে নিয়ে কেন তামাশা করা হয়?
মনে রাখা দরকার, তাজু নিজের পরিচয় দেবে সাংবাদিক হিসেবে। এখনও গ্রামগঞ্জে কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিলে জিজ্ঞেস করা হয়, বুঝলাম সাংবাদিকতা করো “আর কী করো?” এই তকমা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা না করে যখন তাজুদের সাংবাদিক বানানো হয়, তখন অজপাড়াগাঁয়ের লোকজন বলবে, ‘ও, আমাগো তাজুও তো সাংবাদিক।’
সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করে, সাংবাদিকতা করেও আমরা যখন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে কখনও কখনও থেমে যাই, ততক্ষণে তাজুরা অনেক কিছু ধ্বংস করে দেয়।
টাইমস টুডের সম্পাদক একটি ট্রেনিং সেন্টারও পরিচালনা করেন, যেখানে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েদের প্রেজেন্টার বানানো হয় (সাংবাদিক নয়)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির একটি পদেও ছিলেন তিনি। তার কাছ থেকে এটা আশা স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক তাও প্রশ্ন থেকে যায়।
যখন বাংলাদেশে সিটিজেন জার্নালিজম শুরু হলো, বিডিনিউজ ও যমুনা টিভি ভালো কিছু কাজ করেছিল। সময়ের পরিবর্তনে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা এসেছে, যেখানে অনেকের মানও ভালো ছিল। এখনও ভালো মানের মোজো সাংবাদিক রয়েছেন। কিন্তু ইউটিউবারদের অপেশাদারিত্বের কারণে এই সেক্টরও শেষ হয়ে যাচ্ছে। কোনো জায়গায় নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।
নাগরিক সাংবাদিকতা দুর্যোগের সময় কার্যকর হয়, সব সময় নয়। নাগরিক সাংবাদিকতা কোনো পেশা নয়। বাংলাদেশে এটি অনেক ক্ষেত্রে কার্ড ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যাকে-তাকে কার্ড দিয়ে সাংবাদিক বানিয়ে চাঁদাবাজ তৈরি করা হচ্ছে, এটা মনে রাখা দরকার।


