জাকির আহমেদ, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থ বছরের ভাল কাজের স্বীকৃতি হিসাবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল (২৭ জুলাই) সোমবার তাকে সম্মাননা দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার।
কিন্তু শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার মোস্তাফিজ রহমানের বিরুদ্ধে ভূয়া দলিল দিয়ে নামজারি করাসহ অনিয়ম দূর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িত ব্যাক্তিকে শাস্তি না দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা দেওয়ায় সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভ ও নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পদারকোনা মৌজায় ৭ জন জমির মালিকের ভূয়া দলিল ও সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে একটি নামজারি প্রস্তাব করে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান। সেই নামজারি ২০২৫ সালের ১৩ই এপ্রিল অনুমোদন করা হয়। যার নামজারির নম্বর ২৫-৬৪৩।
উল্লেখিত নামজারি দিয়ে জমি বিক্রি করে করে দেন মালিকরা। বিক্রি করা জমি গ্রহিতাদের নিকট দলিল করে দেওয়ার জন্য উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও দলিল লেখক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রহিছ মিয়ার যোগসাজশে আরেকটি ভূয়া দলিল তৈরী করা হয়। দলিলটি ২০২৬ সালের ২৫ জুন নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্টারের নিকট দাখিল করার পর অসংগতির বিষয়টি সামনে আসে। পরে জাল দলিলসহ সকল প্রকার নথি জব্দ করেন উপজেলা সাব-রেজিস্টার মো.জাহিদ হাসান। ভূয়া দলিল রেজিষ্ট্রেশন করার চেষ্টার অপরাধে দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য অফিসের সকল কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেন তিনি।
নিয়ম অনুযায়ী নামজরি প্রস্তুতের আগে সকল ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা । অভিযোগ রয়েছে দায়িত্বরত ভূমি উপ-সহকারী মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান উৎকোচের বিনিময়ে ভূয়া দলিল ও সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই নামজারির প্রস্তাব দিয়ে দেন৷ এবং অফিস ম্যানেজ করে সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই নামজারি করেন।
তার এমন কর্মকাণ্ড সামনে আসলেও শাস্তি না পেয়ে পেয়েছেন পুরষ্কার। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্থানীয় জনসাধারণ।
ভূয়া নামজারি বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি মাঘান ইউনিয়ন থেকে বদলী হয়ে ফতেপুর ইউনিয়নে কর্মরত আছি। সঠিক কাগজ দিয়েই তখন নামজারি প্রস্তাব করেছিলাম।যখন প্রস্তাব করেছিলাম তখন আপনারা ( সাংবাদিকরা) ছিলেন?
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার জানান, ‘এ বিষয়ে সাব-রেজিস্টার অফিস থেকে আমাকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিভাবে মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করছেন বলে সে কথা না বলার জন্য ইউএনও নিষেধ করেছেন বলে জানান তিনি।
ছবি আছেঃ ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান।
জাকির আহমেদ
মোবাইলঃ ০১৭১৭৭৮৩৬১৬
তারিখঃ ২৮/৭/২০২৬ ইং


