মোঃ তুহিন, বিশেষ প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সরকারি কম্পিউটার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও সোহেল ও রানা নামে দুই ব্যক্তি নিয়মিত অফিসে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই দুই ব্যক্তি ভূমি অফিসে বিভিন্ন কাজের জন্য আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নামজারি (খারিজ)সহ বিভিন্ন ভূমিসেবা করে দেওয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী নির্মল অভিযোগ করে বলেন, জমির খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে সোহেল নামের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। নির্মল জানান, তিনি প্রথমে সোহেলকে ভূমি অফিসের স্টাফ বলে মনে করেছিলেন। পরে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, সোহেল ওই অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন।
এদিকে পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব লতিফের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোহেল ও রানা কম্পিউটারে বসে থাকেন, তবে তারা কোনো কাজ করেন না।
তবে অনুসন্ধানের সময় সোহেলকে অফিসের কম্পিউটারে বসে ভূমি-সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি অফিসের কম্পিউটার ব্যবহার করছেন এবং সরকারি কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সরকারি চেয়ারে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বসতে পারেন না। যে কর্মকর্তার দায়িত্ব, তাকেই সেখানে বসতে হবে। সরকারি অফিসিয়াল কম্পিউটারও কোনো বেসরকারি কর্মচারী বা সাধারণ ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন না। সাধারণ কোনো ব্যক্তি সরকারি ভূমি অফিসের কম্পিউটার ব্যবহার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে বহিরাগতদের নিয়মিত যাতায়াত ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে তাদের লেনদেনের কারণে সরকারি ভূমিসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হয়রানি তৈরি হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অনিয়ম বা সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


