আনিসুর রহমান মানিক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এক নারীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৬) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।
রেললাইনের পাশে উদ্ধার হয় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের অদূরে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ওই নারীকে হত্যার পর মরদেহ রেললাইনের ওপর ফেলে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পরিবার তাদের নিখোঁজ মেয়ের মরদেহ মনে করে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন করে।
ইজিবাইক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার, বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য
ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, ৮ মার্চ রাতে কিসমত এলাকায় ইজিবাইক চুরির সময় ইজিবাইকসহ রিফাত বিন সাজ্জাদকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ তার মোবাইল ফোনে নিহত নারীর একটি ভিডিও দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে ওই নারীকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয় বলে জানায় পুলিশ।
ট্রেনে পরিচয়, পরে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পুলিশের বরাতে জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি রাতে দিনাজপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় রিফাতের। পরে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে কিসমত রেলস্টেশনে নামিয়ে নেয় সে।
এরপর শাপলা কিন্ডার গার্টেনের একটি পরিত্যক্ত ঘর ও একটি সুপারি বাগানে নিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রিফাত। এ সময় নিহত নারী তার মোবাইল ফোন ও টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় সে। একপর্যায়ে ওই নারী গালাগালি করলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে রিফাত।
পরে একটি চাকু দিয়ে নিহত নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হত্যাকাণ্ডের আলামত আড়াল করতে মরদেহ রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।
এ ঘটনায় আটোয়ারী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
ন্যায়বিচারের উদাহরণ হবে এ রায়
পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খলিলুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ রায় ন্যায়বিচারের একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতের এ রায়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



