মোঃ মাসুম বিল্লাহ্ বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ সাত দফা দাবিতে বরগুনায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে এ কর্মসূচি থেকে দাবি বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা ও তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হলেও বরগুনার মানুষ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহার, ইউনিট মূল্য পুনর্বিবেচনা, নিয়মিত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রদান, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, গ্রাহকদের সঙ্গে হয়রানি বন্ধ এবং বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস চালু করা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আনিসুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, “আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে বিদ্যুৎ অফিস অচল করে দেওয়ার মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
‘ধরিত্রি রক্ষায় আমরা’-এর আহ্বায়ক মুসফিক আরিফ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।
কর্মসূচি শেষে সাত দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়। এর অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্যের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান বলেন, বরগুনা শহরে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। একইভাবে পল্লী বিদ্যুতের ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।


