আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে আমতলীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার উপজেলা পরিষদ সড়কে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বরগুনায় তিনটি আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের ১০ জুলাই তৎকালীন ১/১১ সরকার সমর্থিত নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে বরগুনার তিনটি আসন ভেঙে দুইটিতে রূপান্তর করে। এতে উন্নয়ন বঞ্চিত হয় উপকূলীয় এই জেলার প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মানুষ।
বরগুনা জেলার আয়তন ১,৮৩১.৩১ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার। ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলাকে বিভক্ত করেছে পায়রা (বুড়িশ্বর) ও বিষখালী নদী। এর মধ্যে সদর ও বেতাগী নিয়ে বরগুনা-১, পাথরঘাটা ও বামনা নিয়ে বরগুনা-২ এবং আমতলী ও তালতলী নিয়ে বরগুনা-৩ আসন গঠিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বরগুনা-১ এ রাখা হয়েছে সদর, আমতলী ও তালতলী; আর বরগুনা-২ এ পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা।
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন আসন পুনর্বহাল না করে খসড়া গেজেট প্রকাশ করে। এতে ক্ষুব্ধ হন জেলার মানুষ। পরে ১০ আগস্ট ১৩০ জন ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে তিনটি আসন পুনর্বহালের আবেদন করেন। আগামী ২৫ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ অধ্যাপক অ্যাডভোকেট মজিদ মল্লিক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম ভিপি মানুন, সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, এনএসএস নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না, প্রেস ক্লাব সভাপতি রেজাউল করিম বাদল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কবির ফকিরসহ অনেকে।
বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, সুষম উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন, নদী ভাঙন প্রতিরোধসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বরগুনার তিনটি আসন পুনর্বহালের বিকল্প নেই।
সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট মজিদ মল্লিক বলেন, ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন বরগুনার তিনটি আসন অবশ্যই পুনর্বহাল করবেন বলে বিশ্বাস করি।


