বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে কলেজের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকার ফুটপাতের একটি বড় অংশ হকার ও অস্থায়ী দোকানিদের দখলে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। পাশাপাশি ব্যস্ত এলাকায় যানজট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগও ছিল দীর্ঘদিনের।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ফুটপাত ও সড়ক জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার লক্ষ্যে এই উচ্ছেদ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
তবে এর পাশাপাশি রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। এসব অস্থায়ী দোকানের ওপর নির্ভর করেই অনেক হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জীবিকা নির্বাহ করতেন। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের কারণে তাদের আয়ের পথ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ কারণে প্রশ্ন উঠছে—শুধু উচ্ছেদ অভিযানই কি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান? নাকি জনস্বার্থ ও হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত?
সচেতন মহলের মতে, একদিকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের জীবিকার বিষয়টিও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সুষ্ঠু নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বের করা যেতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, উচ্ছেদ অভিযানের পর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং হকারদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় কি না।
আপনাদের মতে—শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এই অভিযান কতটা যৌক্তিক? হকারদের জন্য কি বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত? প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?
গঠনমূলক মতামত ও আলোচনার মাধ্যমেই একটি ইতিবাচক ও টেকসই সমাধানের পথ বেরিয়ে আসতে পারে।

