নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এই স্লোগান সামনে রেখে যশোরে কৃষক-খেতমজুর সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার বাগেরহাট বাজারে জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতি সদর উপজেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম-উর রহমান বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের কৃষকদের ভাগ্যের প্রত্যাশিত পরিবর্তন হয়নি। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুঁজিবাদী ও ব্যবসায়ী শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে কৃষি উপকরণের দাম বাড়লেও কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, চাষাবাদের মৌসুমেও কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তসলিম-উর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্রসমাজ রাজপথে আন্দোলন করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কৃষকের জীবন-জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে খাদ্যপণ্য ও মাংস আমদানির উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।
স্থানীয় জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাগেরহাট এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নিচু জমি ও জলাশয় ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মুক্তেশ্বরী ও হরি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় বিল হরিণায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।
সমাবেশ থেকে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, সারসহ সব কৃষি উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, কৃষি খাতে ভর্তুকি মূল্যে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ এবং মুক্তেশ্বরী ও হরি নদী পুনঃখনন করে বিল হরিণার জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী যুবমৈত্রীর যশোরের সদস্য শাকিল আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় খেতমজুর সমিতি যশোর জেলা কমিটির নেতা শাহাবুদ্দিন বাটুল।
এ সময় সংগঠনের জেলা দপ্তর সম্পাদক পলাশ বিশ্বাস, কৃষকনেতা রজব আলী, হযরত আলী, আব্দুস সাত্তার ও আব্দুল মালেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


