আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর):
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৪নং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে যুব সমাজের উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে এক দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টায় শ্যামনগর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যুবসমাজ, ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় যুব সমাজকে সমাজ গঠনের অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যুবকদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “আমাদের যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। যুবকদের সঠিক পথে রাখতে যা যা প্রয়োজন, আমি তা করার চেষ্টা করবো। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতায় একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থান, খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কোনো যুবক যেন মাদকের দিকে ঝুঁকে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন বক্তা বলেন, অতীতের মতপার্থক্য ও বিভেদ ভুলে এখন সময় এসেছে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার। তারা বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নির্মূল এবং যুব সমাজের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি উন্নত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় তারা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মো. আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সবাই মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং যুব সমাজের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতে আরও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

