মোসা বেবিয়ারা খাতুন, শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি//
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের পাট চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। ফিরেছে সোনালী আঁশের কদর। কৃষকরা অনেক খুশী কারণ এবছর যেমন দাম ,তেমনি ফলন। এক সময় পাটই ছিল বাংলাদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল। মধ্যখানে পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে যাওযায় পাট জাত পণ্যের ব্যবহার কমে গিয়েছিল। বর্তমানে পলিথিনের তৈরী পণ্যের ব্যবহার কমে পাট জাত পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে পাটের চাহিদা। সংগে সংগে বেড়েছে পাট চাষীর সংখ্যা ও চাষের পরিমান। ।

সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তর জানান, শিবগঞ্জের মাটি পাট উপযোগী ও দাম ভাল পাওয়ায় পাট চাষীদের সংখ্যাও বাড়ছে। মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান এ বছর আমার সাত বিঘা পাট ছিল। উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৭০হাজার টাকা।সরকার থেকে কোন ধরনের প্রণোদনা পাইনি। ফলন হয়েছে বিঘা প্রতি ১২মণ। ৩৫০০টাকা মণ দরে বিক্রী করেছি।খরচ বাদে আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। পাটকাঠি অর্থাৎ পাটখড়ি পেয়েছি প্রায় ১২০ মণ। পাটখড়ির দামও ভাল। বিক্রী হচ্চে মণ প্রতি ৬০০ টাকা দরে।গত বছর ছিল তিন বিঘা । সামনে বছর প্রায় ১০বিঘা পাট চাষের ইচ্ছা আছে।সাহাবাজপুর ইউনিয়নের ঢুলিপাড়া গ্রামের শহিদুল বলেন,৯ বিঘা পাট চাষ করেছি।ভালো লাভ হয়েছে,দাম বেশি পেলে ইচ্ছা আছে সামনে বছর আরো বেশী করে আবাদ করবো।উপজেলার বিভিন্ন এলাাকা ঘুরে পাটচাষী বদিউর রহমান,মিলন সামাদ, সেলিম,মাহাতাব আলি, আনারুল হক সহ অনেক কৃষক জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের উৎপাদন ও দাম ভাল পেয়েছি। খরচ বাদে লাভ হয়েছে বিঘা প্রতি ২৫ হাজার টাকা। আমরা আমাদের দেশে পাট উৎপাদনের পরিমান বাড়িয়ে সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবো। পাট চাষী ফারুক হোসেন জানান, পলিথিন ব্যবহারে আমরা পরিবেশ দুষণ, জমির উর্বরতা হ্রাস,রাস্তাঘাট নোংরা,নতুন নতুন রোগবালাই বৃদ্ধি সহ নানা ধরনের ক্ষতির সম্মখীন হচ্ছি।তাই পাট চাষ বৃদ্ধি করে পাট থেকে বিভিন্ন তৈরী পণ্য ব্যবহার করলে এ সমস্ত সমস্যার সমাধান হতে পারে। গৃহবধু মোসলেমা বেগম, জানান, পাটচাষীদের জাগ দেয়া পাটের আটি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে অর্ধেক পাটখড়ি পারিশ্রমিক হিসাবে পাচ্ছি। সেখান থেকে এ মৌসুমে আমরা প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা আয় করি।পাঠ চাষিরা পাট উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রণোদনা ব্যবস্থায় সরকাররের সুদৃষ্টি কামনা করেন। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিঞা জানান এ বছর ৮৯৮০ পাট চাষী ১৯১০ হেক্টর জমিতে রবি, মহারাষ্ট্র, সিভিই ৩,সিসি-৪৫ এইচ এস-২৪, বিজেআইআর ৫২সহ সাত প্রজাতির পাট চাষ করেছে। যা গতবার ৮৩০০ জন কৃষক ১৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছিল। কৃষকের সংখ্যা বেড়েছে৬৮০জন এবং জমির পরিমান বেড়েছে ৬০ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ২.৪৯মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭৬৪ মেট্রিক টন। গত বছরের চেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমান ৭৬৪ মেট্রিক টন।


