কাজী রেজওয়ান হোসেন সান, জয়পুরহাট থেকে //
জয়পুরহাটে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পরে মাদকাসক্ত স্বামী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনা শনিবার ভোরে ঘটেছে বলে জানা যায়।
প্রকাশ, নিহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগম (৪৫) তার ঘাতক স্বামী জহির উদ্দিন (৫০) ও দুই নাতি নিয়ে জয়পুরহাট সদরের পুরানাপুল ইউনিয়নের বড়তাজপুর গ্রামে বসবাস করতেন। ইতিপূর্বে ঘাতক স্বামী জহির উদ্দিন ঢাকায় রিক্সা চালাতেন। ঘটনার বেশ কিছুদিন আগেই তিনি গ্রামে চলে আসেন। তার ছেলে ঢাকায় রিক্সা চালায় ও ছেলের বৌ প্রবাসী হওয়ায় দুই নাতি তাদের সাথে থাকতো। ঘাতক স্বামী জহির উদ্দিন মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায় রোকেয়া জহির দম্পতি প্রায়ই ঝগড়াঝাটিতে জড়িয়ে পরতেন এবং জহির স্ত্রী রোকেয়াকে প্রায়ই শারিরীক ভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন শুক্রবারেও তারা ঝগড়া করেন। পরে রোকেয়া বেগম রাতে ঘুমিয়ে পরলে ভোরের কোন এক সময়ে ঘাতক স্বামী জহির উদ্দিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথার পিছন দিকে কোপ দেন। ঘটনা স্থলেই রোকেয়া বেগম নিহত হন। স্ত্রীকে হত্যার পরে ঘাতক স্বামী বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সকালে তাদের দুই নাতি প্রতিবেশিদের জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। ঘাতক স্বামীকে গ্রফতার ও হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। ঘাতক জহিরকে অসুস্থ অবস্থায় বাথরুমে পাওয়া যায় বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো: নাজমুল কাদের বলেন, নিহত গৃহবধূর মাথার পিছনের বাম পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়া হয়েছে। এতে তার কানের কিছু অংশ কেটে গেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


