মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক রাজশাহী,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সদর থানার চর বালিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করার পর, দেনদরবারের মাধ্যমে নগদ ও বিকাশে টাকা নিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নের চর বালিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান চালান এসআই মোতালেব ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। এ সময় স্থানীয় আঃ হান্নান, সাগর আলী ও খালেদা বেগমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে দেনদরবার শেষে কেবল আঃ হান্নানের বিরুদ্ধে ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং আটক অপর দুইজন খালেদা বেগম ও সাগর আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্বেচ্ছায় এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন ছাড়া পাওয়া মাদক ব্যবসায়ী খালেদা বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মোতালেব স্যার আমার বাড়িতে ঢুকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা বের করেন এবং আমাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরবর্তীতে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি অত টাকা না পেয়ে কানের দুল ও আংটি দরগা এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ী আওয়ালের কাছে বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে এবং বাড়িতে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা মোতালেব স্যারকে দিই। এরপর আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”
খালেদা বেগম আরও জানান, তার স্বামী মাদক সেবন করেন। এর আগেও এসআই মোতালেব তাদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং সুযোগ পেলেই এসে টাকা নিয়ে যান। তবে ক্যামেরার আড়ালে তিনি নিজের মাদক ব্যবসার কথা স্বীকার করেন এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।
দরগা এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ী আওয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি নিজে মোটরসাইকেলে গিয়ে ওই স্বর্ণালংকার নিয়ে আসেন এবং এর বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন, যা এখনও তার কাছে বন্ধক রয়েছে। বিকাশ লেনদেনের একটি মোবাইল মেসেজ স্ক্রিনশটেও গত ১৭/০৯/২০২৬ তারিখ দুপুর ৩:০৬ মিনিটে ৫০,০০০ টাকা পাঠানোর প্রমাণ দেখা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মোঃ আব্দুল মোতালেব টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নম্বরে কি টাকা দিয়েছে? আমি কোনো টাকা নেইনি। এজাহারে ১ জন আসামিই ধরা পড়েছে, আমি ৩ জনকে ধরি নাই।”
অন্যদিকে, বিকাশ রিসিভার নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ঐ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা সাংবাদিক অপুর সাথে কথা বলেন। আপনারা তো সবই জানেন, কতবার বলবো? আমি শুধু একজন বিকাশ ব্যবসায়ী।”
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তালুকদার জানান, ওসি স্যার বর্তমানে ট্রেনিংয়ে আছেন। এসআই মোতালেবের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ লিখিত বা আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


