ঢাকাThursday , 20 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • অষ্টগ্রামের ১৭৮ কোটি টাকার সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ: ঠিকাদার উধাও,স্থবির হাওরবাসীর স্বপ্ন

    admin
    August 20, 2026 3:08 pm
    Link Copied!

    অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা:

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত বাংগালপাড়া-চাতলপাড় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা এখন সীমাহীন ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হওয়ার কথা। হাওরাঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক দুই রূপের কারণে সারা বছর সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সাথে বছরজুড়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
    প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭৮ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পাদন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    শুরুর দিকে দ্রুত গতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণদার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই স্থবিরতা নেমে আসে প্রকল্পটিতে। একপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি থমকে যায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের সব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করা শুরু করে। বর্তমানে নদীর বুকে সেতুর মাত্র কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা হাওরবাসীর স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।
    ফলে বর্ষায় উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে ট্রলার কিংবা নৌকাই একমাত্র ভরসা। আবার শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে খেয়া পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সংকটাপন্ন রোগীদের। এতে সারা দেশের সাথে সড়ক পথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওরবাসীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

    সেতুটি চালু হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আশা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, এই সেতু কেবল দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি পণ্য সহজে সারা দেশে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক এ প্রতিনিধিকে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।
    এদিকে হাওরাঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আবার কাজ চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST