এস.এম. রিয়াদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কুষ্টিয়ায় এক বিয়ের দাওয়াত অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা ও ধান-চাল ব্যবসায়ী ওমর ফারুককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা হানিফের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর ঘোষপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠানে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওমর ফারুক। একই অনুষ্ঠানে যুবদল নেতা হানিফও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভোট দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হানিফ ওমর ফারুককে উদ্দেশ্য করে উচ্ছৃঙ্খল ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওমর ফারুক কোনো জবাব না দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হানিফ তাকে কটূক্তি করেন এবং পরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত হানিফকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং আটক করা হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, গত ১৭ মাসে হানিফ তার কাছ থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। তিনি বলেন,
“আমি এক সময় আওয়ামী লীগ করতাম। সেই কারণেই আমাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে আবার চাঁদা দাবি করলে আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। সেই ক্ষোভ থেকেই আজ আমাকে মারধর করা হয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত হানিফের বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল। সংশ্লিষ্ট তিনজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে যুবদলের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।



