ঢাকাMonday , 24 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • উন্নয়নের আড়ালে জীর্ণ ঘরে ভোলার জীবন, পাশে দাঁড়াবে কে?

    admin
    August 24, 2026 2:52 pm
    Link Copied!

    আবু রায়হান, মণিরামপুর প্রতিনিধি:

    স্বাধীনতার পর বদলে গেছে দেশের অনেক কিছু। উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো। কিন্তু সেই উন্নয়নের গল্প যেন আজও লেখা হয়নি সমাজের একেবারে প্রান্তে থাকা কিছু মানুষের জীবনে। তাদেরই একজন মণিরামপুর উপজেলার ৫ নম্বর হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের নিখিল বৈরাগী ওরফে ‘ভোলা’।

    জীর্ণ ও অস্থায়ী একটি ঘরই তার একমাত্র আশ্রয়। নিজের নামে নেই কোনো জায়গা-জমি, নেই স্থায়ী আয়ের উৎস। স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। মানসিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা ভোলা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন চায়ের দোকানে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে দেন। সারাদিনের পরিশ্রমে বিনিময়ে পান মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকা। সেই সামান্য আয়েই কোনোভাবে চলে তাদের সংসার।

    ভোলার একমাত্র ছেলে মহাদেব বৈরাগীও দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার নিজেরও কোনো জমিজমা নেই। অন্যের মাছের ঘেরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়ে নিজের পরিবার চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়।

    পিতা-পুত্রের সামর্থ্যের সম্মিলিত চেষ্টায় একটি এক খোপের ছোট ঘর দাঁড় করানো সম্ভব হলেও সেই ঘরে মহাদেবের স্ত্রী-সন্তান নিয়েই থাকার জায়গা সংকুলান হয়। ফলে নিজেদের সম্মতিতেই ভোলা ও তার স্ত্রী সেই ঘরে না থেকে বাইরে আলাদাভাবে জীবনযাপন করছেন। আলাদা থাকা-খাওয়ার এই ব্যবস্থা তাদের কাছে কোনো পছন্দ নয়; বরং অভাবের নির্মম বাস্তবতার কাছে এক ধরনের বাধ্যতামূলক সমঝোতা।

    একই পরিবারের দুই প্রজন্ম—একদিকে মানসিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা বাবা, অন্যদিকে সম্পদ ও কর্মসংস্থানহীন ছেলে। দুজনের জীবনই যেন দারিদ্র্যের একই চক্রে আটকে আছে।

    “কারও খাবারের মেনুতে বাহারি আয়োজন, ভোলাদের পাতে এক তরকারি”:

    সমাজের এক শ্রেণির মানুষের সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারে থাকে একাধিক পদ, থাকে মাছ-মাংসের নানা আয়োজন। অথচ ভোলার দুই পরিবারের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    সকাল, দুপুর কিংবা রাত—একবেলার খাবারে যে এক তরকারি জোটে, তা দিয়েই কোনোভাবে পার করতে হয় পুরো পরিবারকে। মাছ-মাংস তাদের কাছে যেন খাবার নয়, এক ধরনের বিলাসিতা। অভাবের সংসারে পেট ভরাট করাটাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে পুষ্টিকর খাবারের কথা ভাবাও তাদের জন্য কঠিন।

    পরিবারটির সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সজল মল্লিক জানান, নিখিল বৈরাগী ওরফে ভোলা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পান না।

    এখানেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা—একই ওয়ার্ডে একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও বছরের পর বছর ধরে এমন অসহায় একটি পরিবারের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ কি নেই?

    যে পরিবারে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই নেই, নিয়মিত আয় নেই, খাবারের নিশ্চয়তা নেই—সেই পরিবার যদি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরেই থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি চরম কষ্টে দিন কাটালেও তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন কিংবা সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    অথচ প্রতিবন্ধী ভাতা, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান, সরকারি খাদ্য সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং কর্মসংস্থানসহ অসহায় মানুষের জন্য সরকারের নানা উদ্যোগ রয়েছে।

    আশ্রয় নয়, চান একটু বাঁচার সুযোগ
    ভোলার পরিবারের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা বিলাসবহুল জীবন চান না, চান না বড় কোনো বাড়ি কিংবা সম্পদের পাহাড়। তাদের চাওয়া—সরকারি সহায়তার আওতায় আসার সুযোগ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরেজমিনে যাচাই করবেন। পরিবারটির প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারি খাদ্য সহায়তা, নিরাপদ বাসস্থান, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    কারণ ভোলার জন্য একটি নিরাপদ ঘর কিংবা একবেলা পুষ্টিকর খাবার কোনো বিলাসিতা নয়—এটি তার বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার।

    একদিকে উন্নয়ন আর অন্যদিকে জীর্ণ ঘরে অনিশ্চিত জীবন—এই বৈপরীত্যের মধ্যেই দিন কাটছে ভোলার। একই ওয়ার্ডে দুইজন জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও যদি এমন একটি অসহায় পরিবার বছরের পর বছর নজরের বাইরে থাকে, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—ভোলার পাশে দাঁড়াবে কে?

    এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন জনাব মো.সম্রাট হোসেন কে অবগত করলে তিনি ঘটনাটির দ্রুত ব্যাবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST