জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজার শহরের একটি তারকা খচিত হোটেল থেকে প্রায় দুই হাজার আইফোন ও ল্যাপটপসহ ছয়জন চীনা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা বড় ধরনের অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
বৃহস্পতিবার রাতে শহরের হোটেল সি-প্যালেস – এ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে এবং ঢাকা পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কক্ষ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৩০ থেকে ৪০টি ল্যাপটপ এবং বিদেশি পুলিশের ব্যবহৃত যোগাযোগ সরঞ্জামের মতো কিছু বিশেষ যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, আটক চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে মামলার নম্বর, আসামিদের নাম কিংবা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। বিস্তারিত জানতে তিনি রামু থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আনোয়ারুল হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ওসির ব্যবহৃত নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ওসির সঙ্গেই কথা বলার অনুরোধ জানান।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে আরও অনেক বিদেশি নাগরিক জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। তাঁরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন ভিত্তিক প্রতারণা মূলক চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাঁদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হোটেল সি-প্যালেস কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৬ আগস্ট চীনা নাগরিকদের এই দলটি হোটেলে কক্ষে উঠে । বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশি অভিযানের সময় তাঁদের কয়েকজনকে আটক করা হয়। তবে এসব বিদেশি নাগরিক কী উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে এসেছিলেন বা হোটেলে অবস্থানকালে কী ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন, সে বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্টজনদের বক্তব্য হচ্ছে, কোন ব্যক্তি রুম বুকিং নেওয়ার সময় অবশ্যই অবশ্যই তার বিস্তারিত তথ্য হোটেল রেজিষ্ট্রার এ লিপিবদ্ধ করা বাঞ্ছনীয়, তখনই ভবিষ্যৎ এ যে কোন বিপদে তথ্য আদান-প্রদান এর ক্ষেত্রে সহজ হবে ।


