রতন রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
৮ অক্টোবর ২০২৬
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পূজা মন্দিরে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সড়ক যোগাযোগ ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম।
সভায় বক্তব্য রাখেন রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান সাগর, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক নিতাই চন্দ্র রায়, সদস্য সচিব রতন রায়, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক সুশীল সরকার, সদস্য সচিব সুজন কুমার রায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় উপজেলার ১৩১টি পূজা মন্দিরের সভাপতি ও সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। এই পূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয় এটি দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বড় উদাহরণ। তাই পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মন্দিরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা এবং গুজব এড়িয়ে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সভায় প্রতিটি মন্দিরের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিশেষ করে মন্দিরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের চলাচল ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূজা কমিটিগুলোকে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম বলেন, “এবার ১৩১টি পূজা মন্দিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।” তিনি ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে রাজারহাটের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন কমিটি ও সাধারণ জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।


