এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়া সুন্দরবনসহ উপকূলীয় বনভূমি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে কক্সবাজার পর্যটন এলাকার ওশান প্যারাডাইস হোটেলে আয়োজিত এক গণশুনানিতে বক্তারা এই দাবি জানান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র উদ্যোগে এবং ‘ব্লু ইকনমি এন্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস (BID4CJ)’ প্রকল্পের আওতায় ‘উপকূলীয় বন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা: করণীয়’ শীর্ষক এই জনগুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
আলোচনার প্রধান ইস্যু ছিল ‘চকরিয়া সুন্দরবন’। কক্সবাজার জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠান হলেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল চকরিয়া উপজেলার পরিবেশগত বিপর্যয় ও বিলুপ্ত প্রায় বনভূমি। গণশুনানিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), উবিনীগ, স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন এবং চকরিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা জোরালো বক্তব্য রাখেন। তাদের সবার অভিন্ন দাবি ছিল— হারানো ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ যেকোনো মূল্যে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, এক সময়ের সমৃদ্ধ এই ম্যানগ্রোভ বন আজ ধ্বংসের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বন পুনরায় গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। “চকরিয়া সুন্দরবন কেবল একটি বন নয়, এটি এই অঞ্চলের রক্ষাকবচ। একে আগের রূপে ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
পরিবেশ রক্ষায় সংহতি:- গণশুনানিতে উপস্থিত বক্তারা চকরিয়ার সংবাদকর্মী ও পরিবেশ কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। কক্সবাজার শহরে অবস্থান করলেও নিজ এলাকার প্রকৃতি ও মাটি রক্ষায় তাদের আবেগপূর্ণ ও তথ্য সমৃদ্ধ আলোচনা উপস্থিত সবাইকে আন্দোলিত করে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মিলিত সামাজিক লড়াইয়ের মাধ্যমেই একদিন চকরিয়া সুন্দরবন তার হারানো সবুজ রূপ ফিরে পাবে।
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আইনি পদক্ষেপ:- অনুষ্ঠানে নীল অর্থনীতির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এবং উপকূলীয় বন ধ্বংসের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন সংরক্ষণে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। পরিবেশ রক্ষার নতুন প্রত্যয় এবং হারিয়ে যাওয়া সবুজকে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গণশুনানির সমাপ্তি ঘটে।


