ঢাকাMonday , 14 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • চাকরিবিধি ভেঙে তৈরি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, পিছিয়ে নেই নার্স, একই স্থানে টানা ২৮ বছর!

    admin
    September 14, 2026 2:20 pm
    Link Copied!

    জেলা প্রতিনিধি
    কক্সবাজার:

    সরকারি চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর একই পদে ও একই স্থানে জাঁকিয়ে বসে আছেন একঝাঁক নার্স। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত মোট ১২৭ জন নার্সের মধ্যে ৪০ জনের যোগদানের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে উঠে এসেছে চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও সীমাহীন অনিয়মের চিত্র। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ৪০ জনের মধ্যে ২৭ জন নার্সই বিগত ১ থেকে ২ যুগেরও বেশি সময় (১০ থেকে ২৮ বছর) ধরে একই হাসপাতালে টানা কর্মরত আছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর পর বদলির স্পষ্ট বিধি থাকলেও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তা কেবলই কাগজের কলমে সীমাবদ্ধ।
    দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে অবস্থানের ফলে গড়ে ওঠা এই নার্স সিন্ডিকেটের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সীমান্তবর্তী এই জেলার সাধারণ ও অসচ্ছল রোগীরা।

    দশকের পর দশক একই হাসপাতালে বহাল থাকা ২৭ নার্সের চিত্র, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নথিপত্র ও যোগদানের তারিখ পর্যালোচনা করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা নার্স ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বহাল তরিয়তে আছেন মহা ক্ষমতাধর দুই নার্সিং কর্মকর্তা শেফালী রানী মন্ডল (নার্সিং সুপারভাইজার) ৩ মে, ১৯৯৮ থেকে (২৮ বছর ৪ মাস) ও বেবি রানী আইচ (নার্সিং সুপারভাইজার) ৬ মে, ১৯৯৮ থেকে (২৮ বছর ৪ মাস)

    ২৭ বছরের বেশি সময় ধরে বহাল তরিয়তে আছেন আর দুইজন, শামীমা আক্তার (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১৫ মে, ১৯৯৯ থেকে (২৭ বছর ৩ মাস) ও মাসুদা আক্তার (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১ জুন, ১৯৯৯ থেকে (২৭ বছর ৩ মাস)

    ২০ থেকে ২৩ বছর এর বেশি সময় ধরে বহাল তরিয়তে আছেন আর সাতজন, পারভীন মন্ডল (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১১ নভেম্বর, ২০০২ থেকে (২৩ বছর ৯ মাস), ডেইজি শর্মা (স্টাফ নার্স): ১৩ অক্টোবর, ২০০৩ থেকে (২২ বছর ১১ মাস), রত্নশ্রী মল্লিক (স্টাফ নার্স): ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ থেকে (২২ বছর ৭ মাস), নিভা বড়ুয়া (স্টাফ নার্স): ২৪ আগস্ট, ২০০৪ থেকে (২২ বছর ১ মাস), রুমা আক্তার (স্টাফ নার্স): ২০ ডিসেম্বর, ২০০৪ থেকে (২১ বছর ৯ মাস), ছবি চক্রবর্তী (নার্সিং সুপারভাইজার): ১৯ মে, ২০০৫ থেকে (২১ বছর ৩ মাস) ও লক্ষ্মী রানী শর্মা (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ থেকে (২০ বছর)

    ১৫ থেকে ১৮ এর বেশি সময় ধরে বহাল তরিয়তে আছেন আর পাঁচজন, সাজেদা সাত্তার সাজু (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ৬ আগস্ট, ২০০৮ থেকে (১৮ বছর ১ মাস), চম্পা রানী থাপা (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ থেকে (১৭ বছর ৭ মাস), বকুল রানী পাল (নার্সিং সুপারভাইজার): ১০ জুলাই, ২০০৯ থেকে (১৭ বছর ২ মাস), তাহেরা সুলতানা (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ থেকে (১৬ বছর ৭ মাস) ও শামিমা নাসরিন (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ২০ জুলাই, ২০১০ থেকে (১৬ বছর ২ মাস)

    ১১ থেকে ১৪ এর বেশি সময় ধরে বহাল তরিয়তে আছেন আর এগারজন, খুকু মজুমদার (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১৮ অক্টোবর, ২০১১ থেকে (১৪ বছর ১১ মাস), শেলিকা আচার্য্য (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১ থেকে (১৪ বছর ৯ মাস), জয়ন্তী রানী দে (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১ জানুয়ারি, ২০১২ থেকে (১৪ বছর ৮ মাস), চিনু পাল (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ থেকে (১৩ বছর), শুকতারা হক (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ থেকে (১৩ বছর), নিপা পাল (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ থেকে (১৩ বছর), রূপালী শর্মা (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ থেকে (১৩ বছর), সামিমা আক্তার (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ থেকে (১৩ বছর), মুর্শিদা ইয়াসমিন (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ থেকে (১৩ বছর), শাহিনুর আক্তার (সিনিয়র স্টাফ নার্স): ৯ অক্টোবর, ২০১৩ থেকে (১২ বছর ১১ মাস) ও মোঃ বেলালে হোসেন (সহকারী নার্স): ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ থেকে (১১ বছর ৯ মাস)

    সরকারি চাকরি বিধি ও নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন
    কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এই প্রশাসনিক স্থবিরতা সরকারি চাকরি বিধি ও নীতিমালার সরাসরি চরম লঙ্ঘন ফুটে উঠেছে উক্ত তথ্য উপাত্তের মধ্যে, ১২৭ জনের মধ্যে এই প্রতিবেদক ৪০ জনের তথ্য উপাত্ত যাচাই এর সুযোগ পেয়েছে বাকি কর্মকর্মা/কর্মচারীদের তথ্য উপাত্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে উক্ত প্রতিষ্টানের প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশাঙ্কা করা হচ্ছে ।

    সরকারি চাকরি আইন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী কর্মচারীদের এক কর্মস্থলে সাধারণ কার্যকাল ৩ বছর। কিন্তু এখানে তা টানা ১০ থেকে ২৮ বছর পর্যন্ত গড়িয়েছে, যা বদলি সংক্রান্ত সরকারি পরিপত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যা কতৃপক্ষের অজ্ঞাতসারে হওয়ার কথা নয়, বিধায় এর দায় কতৃপক্ষ এড়াতে পারে কি না সচেতন মহলের প্রশ্ন ।

    তালিকায় থাকা রূপালী শর্মার মতো অনেকেই উক্ত প্রতিষ্টানে “Working Deputation”-এ থেকে বা নির্দিষ্ট পদ আঁকড়ে টানা ১৩ বছর পার করছেন। প্রাক্কলন ও পদোন্নতি বিধিমালা ভেঙে এভাবে পদ আঁকড়ে রাখা বেআইনি।

    সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী স্থানীয় স্বার্থগোষ্ঠী তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কক্সবাজারে দীর্ঘকাল অবস্থান করে এরা নিজস্ব বলয় এবং স্বার্থগোষ্ঠী তৈরি করেছে, যা সাধারন জনগনের চিকিৎসা সেবায় বাধা সৃষ্টি হয়ে দাড়াচ্ছে।

    হাসপতাল কতৃপক্ষের সরবরাহকৃত নথিপত্রে ১২৭ জনের মধ্যে ৪০ জনের তথ্য পাওয়া গেছে বাকি ৮৭ জন নার্সের যোগদানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় শতভাগ যাচাই সম্ভব হয় নাই । এই নথিপত্রে বহু নার্সের যোগদানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকা প্রমাণ করে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজ কোন অদৃশ্য কারনে আপডেট রাখা হয়নি। যা তদন্ত সাপেক্ষে খুঁজে বের করা দরকার বলে মনে করেন সচেতন জেলাবাসী ।

    সিন্ডিকেটের শক্তিশালী থাবায় জিম্মি সাধারণ জনগণ চিকিৎসা সেবা, দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে শিকড় গেড়ে বসে থাকার কারণে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে একটি শক্তিশালী অপপ্রশাসনিক বলয় ও সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসাসেবার মান ভেঙে পড়েছে, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ায় রোগীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা এবং সময়মত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ নিত্যদিনের। নতুন বদলি হয়ে আসা নার্সরা এই সিন্ডিকেটের দাপটে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। পুরোনোদের দৌরাত্ম্যে কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের তোয়াক্কা না করে হাসপাতালটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত করেছে এই নার্সসহ তাদের বলয়ের সিন্ডিকেট চক্র।

    অবিলম্বে মুক্তি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি:
    কক্সবাজার জেলার ২৯ লক্ষ স্থানীয় জনগন পাশাপাশি ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গাদের একমাত্র সর্ব্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র সদর হাসপাতাল। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ রোগীদের এই সিন্ডিকেটের কবল থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে বিধিমোতাবেক গণ-বদলি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির এই চরম অব্যবস্থাপনা দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST