জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার:
তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সাধারণ মানুষের জানার অধিকারই সুশাসন ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিমূল – এই বার্তাকে সামনে রেখে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব)-এর উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই বেলা ১১:০০ টায় কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাইতুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
“Advancing Accountability and Transparency through the Right to Information” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল – “তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে”। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতন করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা ক্যানভাসে তুলির আঁচড়ে এবং মঞ্চে শাণিত যুক্তির লড়াইয়ে তথ্য অধিকার আইনের গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তথ্যের অধিকার ও নাগরিক ক্ষমতায়ন নিয়ে আকর্ষণীয় পোস্টার প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিতার্কিকরা তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব – তা যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে দারুণ ভাবে উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাইতুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছৈয়দুল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে তথ্য অধিকার আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো জানতে হবে। এই তরুণ বয়সেই যদি তারা স্বচ্ছতা ও সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন সম্ভব।”
রিইব (RIB)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর নাছিমা পারভীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের একটি মৌলিক বিষয়। জনগণ যখন সঠিক তথ্য জানতে পারবে, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তরুণেরা যদি সচেতন হয় এবং তথ্য চাওয়ার চর্চা গড়ে তোলে, তবে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি আমাদের গণতন্ত্র আরও বেশি শক্তিশালী হবে।”
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও দলগুলোর হাতে মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি মডারেট করেন বিশিষ্ট কবি ও আবৃত্তিকার জসীম উদ্দীন বকুল। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কক্সবাজার সিটি কলেজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক জেবুন্নেসা, প্রভাষক ঈস্ফিতা চক্রবর্তী, শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমীর পরিচালক মিনহাজ চৌধুরী এবং সাংবাদিক মনিরুল মোবারক। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর আনচারুল করিম।
পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সমন্বয় করেন রিইব-এর কক্সবাজার জেলা মাঠ সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম হামজা। তিনি জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা বাড়াতে এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশের সুশাসনে অংশীদার করতে রিইব ভবিষ্যতেও এ ধরনের নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


