আনিসুর রহমান মানিক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
বছরের শেষ দিকে পঞ্চগড়ের চা বাগানগুলোতে উৎপাদন কমে আসার পাশাপাশি বেড়েছে উৎপাদন খরচ। অন্যদিকে, কাঁচা চা পাতার দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চা চাষিরা। প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৮ টাকা। অথচ বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রতি কেজি পাতা বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চা চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
চা চাষিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই দাম কমে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায় নেমে এসেছে। গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কাঁচা চা পাতার দাম বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পাতার দাম কমে যাওয়ার দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন বাগানমালিকেরা।
চা চাষিদের আশঙ্কা, এভাবে দাম কমতে থাকলে অনেক বাগানমালিককে উৎপাদন খরচের নিচে চা পাতা বিক্রি করতে হতে পারে। এতে লোকসানের বোঝা আবারও চাষিদের ওপর চাপবে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকলে চায়ের গুণগত মান বজায় রাখা এবং বাগান পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
এ পরিস্থিতিতে পঞ্চগড়ের চা শিল্প রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছে চা বাগান মালিক সমিতি, পঞ্চগড়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে চা বিক্রি বন্ধ করা, নিলাম ব্যবস্থায় কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাব দূর করা এবং বাজারে বিক্রি হওয়া চায়ের দামের সঙ্গে কাঁচা পাতার মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
চা বাগান মালিক সমিতির নেতারা মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং চায়ের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নিলাম ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, পঞ্চগড়ের চা শিল্প এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই এই শিল্পের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চাষিদের টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
চা বাগান মালিক সমিতি, পঞ্চগড়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পঞ্চগড়ের চা শিল্পের সুরক্ষা ও উন্নয়নে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। চা শিল্পের কোনো ক্ষতি হোক, তা তাঁরা চান না। চাষিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে এই শিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
চা চাষিদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে এবং পঞ্চগড়ের চা শিল্পকে সম্ভাব্য সংকট থেকে রক্ষা করা হবে।


