আনিসুর রহমান মানিক :পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রামে রাতের আঁধারে এক কৃষকের প্রায় ৫৫০টি ফলন্ত লাউগাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আব্দুল হামিদ।
আব্দুল হামিদ চাঁনপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে। তিনি জানান, নিজের জমিতে প্রায় ৭০০টি লাউগাছ রোপণ করেছিলেন। গাছগুলোতে ইতোমধ্যে লাউ ধরতে শুরু করেছিল এবং ফলনও ভালো হচ্ছিল। তবে গত রাতে দুর্বৃত্তরা তার প্রায় ৫৫০টি লাউগাছ গোড়া থেকে কেটে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, সকালে জমিতে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অধিকাংশ লাউগাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। এতে তার দীর্ঘদিনের শ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আসন্ন ফলন থেকে যে আয় হওয়ার কথা ছিল, তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিষয়ে আব্দুল হামিদ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার ৩-৪ দিন আগে একই গ্রামের বাসিন্দা ও তার ফুফাতো ভাই মো. সবুজের সঙ্গে তার ঝগড়া-বিবাদ হয়। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সবুজ তাকে উদ্দেশ করে, ‘তোকে আমি রাস্তার ফকির বানিয়ে ছাড়বো’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার পর থেকেই সবুজের প্রতি তার সন্দেহের কথা জানান আব্দুল হামিদ।
তবে লাউগাছ কাটার ঘটনায় মো. সবুজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হামিদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফলন্ত লাউগাছ কেটে দেওয়ায় কৃষক পরিবারের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলে জানান আব্দুল হামিদ। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


