এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি চরম ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত চার দিনের অবিরাম বৃষ্টি এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় জেলায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০ টি উপজেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬ লাখ মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জেলার প্রধান দুই নদী—বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া, রামু এবং উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে। চকরিয়ার ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজারো বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি এবং চিংড়ির ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে বেশ কয়েকটি উপজেলার সাময়িক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া উত্তাল সাগরের কারণে টানা ৮ দিন ধরে টেকনাফ – সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার – মহেশখালী এবং পেকুয়া – কুতুবদিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন পুরো জেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় মোট ৬৪৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ শুরু হলেও অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে দ্বীপ ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন এ খাদ্য, ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী আরও দু-একদিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যা বন্যা ও পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে।


