ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
বিএনপির ইতিহাস কখনো পালিয়ে যাওয়া কিংবা আত্মসমর্পণের ইতিহাস নয়, বরং জনগণকে সাথে নিয়ে মাঠে থেকে ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করার ইতিহাস বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা বা কোনো গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যক্তিগত বা দলীয় সম্পদ মনে করে কুক্ষিগত করার চেষ্টা যারা করেছে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করেনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় বৃক্ষরোপণ (প্রধানমন্ত্রীর ০৫ বছরে ২৫ কোটি) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিনামূল্যে কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহিদ হোসেন দেশের বড় বড় ঐতিহাসিক অর্জনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে স্বাধীনতা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ অর্জন। এরপরে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণ-আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান।” বিগত ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গত বছরের ১৬ জুলাই পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার সন্তান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের শাহাদাতবরণের ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়েই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে এবং ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়। এটি দেশের সকল মানুষের অর্জন, কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়।
আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, “যখনই যে দল দেশের স্বাধীনতাকে নিজেদের অর্জিত সম্পদ মনে করেছে, তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে। ঠিক একইভাবে যারা চব্বিশকে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল, মনে করেছিল শুধু তারাই সর্বেসর্বা—দেশের মানুষ কিন্তু গত ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক রায় দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষে তাদের সমর্থন স্পষ্ট করেছে।”
নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বিএনপি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না উল্লেখ করে ডা. জাহিদ বলেন, “আমরা মনে করি ছোট হোক বড় হোক, আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে চলতে চাই। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা যা বলব তাই হবে—এমনটা বিএনপি মনে করে না। এই দেশের মানুষ যা চায়, তা-ই হবে। আর সেই কারণেই সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই সংসদে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দেশের মানুষের কল্যাণে এ বছর ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সর্ববৃহৎ বাজেট অনুমোদন করেছে।”
রাজনৈতিক সহকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো আপসহীন নেত্রীর দল বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবনে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং দলের বর্তমান নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত থেকেও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার প্রমাণ দেশের মানুষ গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দিয়েছে।
ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ঐক্যের বিকল্প যারা চিন্তা করছেন, তারা ফাটল সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন না। তাহলে বেহুলা-লক্ষিন্দরের মতো ওই ফাটল দিয়ে সাপ ঢুকে ছোবল দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। দয়া করে এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে কোনো অবস্থাতেই বিপদের সম্মুখীন করবেন না।”
উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত উক্ত সার ও বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ, ঘোড়াঘাট থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুজ্জামান।
এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মো. শামীম হোসেন চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া ও মাহফুজুর রহমান লাভলুসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

