কামরুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান ও ‘শুটার আরমান’ নামে পরিচিত মো. আরমান হোসেন দীপু ওরফে আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-৬ সূত্র জানায়, আরমান খুলনার দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব ‘আরমান বাহিনী’ গড়ে তোলেন। বাহিনীটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আরমান খুলনা ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আত্মগোপনে ছিলেন। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং সেখান থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
আরমানের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুরের একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৭ মে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল এবং তখন হত্যা, অস্ত্র ও দস্যুতাসহ অন্তত সাতটি মামলার আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া যায়। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, আরমানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে খুলনায় সক্রিয় তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পথ আরও সহজ হয়েছে। তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-৬-এর কর্মকর্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


