বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাগুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জেলার প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৭ নম্বর মঘী ইউনিয়নের কৃতী সন্তান এবং জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জনাব এম এ আউয়াল আর নেই।
তিনি ২৪ আগস্ট রাত ১১টা ১৯ মিনিটে মাগুরা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে মাগুরার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুধী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুই স্থানে অনুষ্ঠিত জানাজা
মরহুম এম এ আউয়ালের জানাজা ২৫ আগস্ট মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন মাঠে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর নিজ এলাকা মঘী ইউনিয়নের নওপাড়া স্কুল মাঠে দুপুর ২টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই জানাজায় রাজনৈতিক সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তাঁকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে মানুষের উপস্থিতিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জনসেবায় নিবেদিত এক প্রবীণ রাজনীতিক
এম এ আউয়াল ছিলেন মাগুরার রাজনীতির একজন পরিচিত ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের অধিকার, এলাকার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
সাবেক মাগুরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেন। জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
মঘী ইউনিয়নের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনীতিক ছিলেন না; অনেকের কাছে ছিলেন একজন অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল।
শিক্ষা বিস্তারে ছিল বিশেষ অবদান
এম এ আউয়ালের সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখা। মঘী ইউনিয়নের নওপাড়া এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণের প্রতি তাঁর আগ্রহ তাঁকে একজন বহুমাত্রিক জনসম্পৃক্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল।
জাসদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদের রাজনীতিতেও এম এ আউয়াল দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কারণে দলের নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাভাজন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা মাগুরার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।
একজন অভিভাবকের বিদায়
এম এ আউয়ালের মৃত্যুতে মাগুরা হারিয়েছে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক জনপ্রতিনিধিকে। বিশেষ করে মঘী ইউনিয়নের মানুষের কাছে তাঁর মৃত্যু যেন একজন আপন অভিভাবককে হারানোর মতো।
রাজনীতির মাঠে মত-পথের ভিন্নতা থাকলেও একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ পথচলা, জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক অবদান তাঁকে মানুষের কাছে স্মরণীয় করে রাখবে।
তাঁর চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর কর্ম, আদর্শ, জনসেবার স্মৃতি এবং মানুষের জন্য করা কাজের মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
মাগুরা হারালো তার এক বর্ষীয়ান রাজনীতিককে, মঘী ইউনিয়ন হারালো তার এক অভিভাবককে, আর স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীরা হারালেন একজন প্রিয় মানুষকে।
মহান আল্লাহ তাআলা মরহুম এম এ আউয়ালকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন।
আমিন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।


