মোঃ মাসুম বিল্লাহ্, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
রেন্ট-এ-কারের বাইক রাইডার থেকে স্বর্ণকার, এরপর ‘সর্বরোগ বিশেষজ্ঞ’—বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈধ চিকিৎসা-সনদ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চেম্বারে রোগী দেখছেন তিনি। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযান ও জরিমানার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেতাগী পৌর শহরের বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলমের চেম্বারে রোগী দেখার কার্যক্রম চলছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে রোগী সেজে তার চেম্বারে গেলে এলার্জির কথা শুনে একাধিক ওষুধের পাশাপাশি কয়েকটি পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। নির্ধারিত ভিজিট ২০০ টাকা হলেও দূর থেকে আসার কথা জানালে নেওয়া হয় ১০০ টাকা।
পরিচয় ও চিকিৎসা-যোগ্যতা জানতে চাইলে গোপন ক্যামেরায় জাহাঙ্গীর নিজেকে ‘টেকনিশিয়ান’ বলে পরিচয় দেন। চেম্বারে তার পাশে সেফট্রিয়াক্সোনসহ বিভিন্ন ওষুধের খালি কার্টন ও স্যালাইনের প্যাকেটও দেখা যায়। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। পরে আগের একটি প্রেসক্রিপশন দেখানো হলে সেটি হাত থেকে টেনে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন জাহাঙ্গীর। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চেম্বার থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বৈধ কাগজপত্র থাকলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর এভাবে পালানোর কারণ কী। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জাহাঙ্গীরের চেম্বার ঘিরে রয়েছে একাধিক কথিত দালাল। তাদের মাধ্যমে রোগী এনে চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করা হয়। প্রশাসন বা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেলেও তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আগে ছাপানো ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করলেও বর্তমানে সাদা কাগজে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ ও পরীক্ষা দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি টেকনিশিয়ান এবং আরএমপি ও প্যারামেডিকেল কোর্স করেছেন। তবে তিনি কোনো চিকিৎসা দেন না বলে দাবি করেন।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়্যিদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ কাগজপত্র নেই। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেতাগী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যেহেতু তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা চিকিৎসা করার মতো কোনো সনদ নেই, সেহেতু তিনি চিকিৎসা পরিচালনা করলে এতে রোগীদের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে বৈধ সনদ ছাড়া এভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতো না। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


