জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফে নিজ বসতবাড়ি থেকে অস্ত্রধারীদের হাতে অপহৃত কৃষক মোহাম্মদ রফিক (৪৫) তিন দিন পর মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিবারের দাবি, সন্ত্রাসীদের চাওয়া মুক্তিপণ পরিশোধ করার পরই বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রফিক নিরাপদে বাড়ি ফিরলেও পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের ধারাবাহিক তাণ্ডবে পুরো এলাকা জুড়ে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপহৃত মোহাম্মদ রফিক টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মমতাজ আহমদের ছেলে। তিনি বাহারছড়া ইউনিয়ন (উত্তর শাখা) ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ কায়সারের বড় ভাই।
যেভাবে ঘটেছিল অপহরণের ঘটনা:-
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাইন্না পাড়া সংলগ্ন চৌকিদার পাড়া এলাকায় রফিকের বাড়ি ঘেরাও করে। সন্ত্রাসীরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রফিককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং দ্রুত কাছের গহীন পাহাড়ের দিকে সটকে পড়ে।
ঘটনার পর পরই অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং রফিকের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। তিন দিন ধরে নানা আলোচনার পর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের দাবিকৃত মুক্তিপণ পৌঁছানো হলে বেলা আড়াইটার দিকে সন্ত্রাসীরা রফিককে পাহাড়ি পাহারা থেকে মুক্ত করে দেয়। ছাড়া পাওয়ার পর বিকেলে তিনি অক্ষত অবস্থায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান।
এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ:-
মোহাম্মদ রফিক সহিসালামতে বাড়ি ফেরায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি এলেও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক চেপে বসেছে। বাইন্নাপাড়া ও চৌকিদারপাড়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, বসতবাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে এভাবে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন নিজ বাড়িতেও নিরাপত্তা বোধ করছেন না। অবিলম্বে এই পাহাড়ি ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের দমনে যৌথ অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ:-
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আবু সাঈদ বলেন, “শুক্রবার দুপুরের পর অপহৃত মোহাম্মদ রফিক নিজ বাড়িতে ফিরে আসার সংবাদ পাই। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায় এবং তাঁর সার্বিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়। তিনি দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকায় বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।”
আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি আরও জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক মামলা নথিভুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এই অপহরণের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


