এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিজয়ের গৌরবকে ধারণ করে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা–২০২৫ ইতিহাস, দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এ মেলায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স।
মেলার অভ্যন্তরে সংগঠনটি পাঁচ নং স্টলে মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। মেলার প্রথম দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে এ স্টলের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে কর্মসূচির সূচনা করেন কক্সবাজার জেলার সাবেক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাছির উদ্দিন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য সরোয়ার সাঈদ।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলা বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামশেদ, জাতীয় পত্রিকা দৈনিক সবুজ বাংলা–এর কক্সবাজার জেলা ষ্টাফ রিপোর্টার কবি জসিম উদ্দিন, ষ্টল সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মোঃ ছিদ্দিকসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুধু বিনোদন বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনকল্যাণ মূলক উদ্যোগ যুক্ত করা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।
ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্সের নেতৃবৃন্দ জানান, মেলায় আগত সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই তাদের রক্তের গ্রুপ জানতে পারেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত হন—এ লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় আগত বিভিন্ন বয়সের মানুষ রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করাচ্ছেন এবং অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন।
কর্মসূচিতে সহযোগিতায় করতেছে প্রিমিয়ার মেডিকেল সেন্টার, হাসপাতাল সড়ক, কক্সবাজার । অভিজ্ঞ প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রক্ত সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সংগৃহীত রক্ত জরুরি প্রয়োজনে মুমূর্ষু রোগী ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি একদিকে যেমন রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে সংকটময় মুহূর্তে জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মেলা চলাকালীন পুরো পাঁচ দিন এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার এই মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করবে এবং মানবতার চর্চাকে নতুন মাত্রা দেবে।



