যশোর প্রতিনিধি :
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র ও অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা হোটেল জাবিরের নিচে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে এক দুঃসাহসিক ও চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্ত সড়কে দিনের আলোয় অস্ত্র উঁচিয়ে দিনদুপুরে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে এম এম আলী রোডে অবস্থিত ‘ইফতারে মোড়’ (হোটেল জাবিরের নিচে) একটি চাইনিজ ভ্যান দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ব্যবসায়ী নয়ন। ঠিক সে সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি চলন্ত রিকশা থেকে ছিনতাইকারীরা নেমে সরাসরি দোকানের কর্মচারীদের ঘিরে ধরে।
মুহূর্তের মধ্যেই ধারালো চাকু উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কর্মচারীর কাছ থেকে মানিব্যাগ থাবা দিয়ে ছিনিয়ে নেয়। মানিব্যাগে নগদ ১,৭৯০ টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল বলে ভুক্তভোগী জানান।
ভুক্তভোগী নয়ন ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন, আমি দোকান খোলার কাজ করছিলাম। হঠাৎ ওরা এসে চাকু উঁচিয়ে ভয় দেখায় চাকু দেখিয়ে বলে তোরা কারা? তুই চাকু দিয়ে কি করিস?আমি বলি চাকু তো আমার না কথা শেষ হতে না হতেই মানিব্যাগ থাবা দিয়ে টাকা নিয়ে রিকশায় ওঠে।
ছিনতাইয়ের পর নয়ন চিৎকার করে আকুতি-মিনতি জানালেও আশেপাশের কেউ ছিনতাইকারীদের গতিরোধ করতে এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে টাকা উদ্ধারের আশায় ভুক্তভোগী নয়ন নিজেই চিত্রার মোড় থেকে শুরু করে মাইক পট্টি হয়ে ল্যাব স্ক্যান হাসপাতাল পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের পেছনে ধাওয়া করেন। তবে ব্যস্ততম সড়কে পথচারীরা উপস্থিত থাকলেও কেউ তাকে সাহায্য করতে বা ছিনতাইকারীদের আটক করতে এগিয়ে আসেনি।
পুরো ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতি প্রত্যক্ষভাবে ক্যামেরাবন্দী করেন যশোর বার্তা’র প্রধান ফটো সাংবাদিক সানোয়ার আলম সানু। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শহরজুড়ে চরম আলোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। বর্তমানে এটি শহরের অন্যতম ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল ও ব্যবসায়ী সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, শহরের সবচেয়ে জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকায় দিনের দুপুরে এ ধরনের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতিকে নির্দেশ করে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা অবিলম্বে এই তিন ছিনতাইকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং শহরের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।


